রক্তে কেনা এ স্বাধীনতা
স্বাধীনতার সুক্ষ্মবীজ বপণকারী বাঙ্গালি জাতির পিতা,
কী ভাবছো? রক্তে কেনা এ স্বাধীনতা!
১৯৪৭-এ স্বাধীনতার পর পূর্ব বাংলায় নির্যাতন, শোষণে হায়েনারা একাকার!
‘৪৮’ এ সংগ্রাম শুরু বাংলা ভাষা হবে কার।
জিন্না-খাজার নির্দেশেতে চললো হত্যাযজ্ঞ,
বাঙ্গালি জাতি ধরলো চেপে হয়ে একতাবদ্ধ।
‘৫২’ সালে ছাত্রমিছিলে চলালো হায়েনা গুলি,
কেড়ে নিতে চেয়েছিল ওরা আমাদের বাংলা মায়ের বুলি।
পালাবি কোথায় হয়েনারদল জেগেছে বাঙ্গালি জাতি,
নতজানু হয়ে অবশেষে তারা উর্দু’র টানলো ইতি।
রফিক, শফিক, সালাম বরকত জীবন দিলো শেষে।
রক্তেভেজা মাতৃভাষা পেলাম অবশেষে।
রক্ত চুষে, তাজা প্রাণ নিয়ে দমেনি হায়েনা মোটে,
দমনপিড়ন চালাতে তারা নতুন ছক আটে।
প্রতিদিন কতো বাঙ্গালি মরেছে হায়েনার আঘাতে!
বাঙ্গালি জাতি জেগে উঠেছে ‘৫৪’র নির্বাচন জিতে।
তালবাহানা শুরু করে হায়েনা ক্ষমতা ছাড়েনা,
বীর বাঙ্গালি বীরের জাতি হায়েনা জানেনা।
পূর্ব বাংলায় বেজে উঠলো স্বাধীনতার ডামাডোল,
আইয়ুব খানের মাথা নষ্ট দেখে শেখ মুজিবের কৌশল।
‘৬৬’র ঐ ৬ দফা বাঙ্গালির মুক্তি সনদ,
রাজপথের ঐ বীর বাঙ্গালির ঠিকানা হলো গারদ।
‘৬৮’সালে শেখ মুজিবের ডাকে শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন,
শেখ মুজিবসহ বাঙ্গালি দমাতে হায়েনার আগরতলা মামলার আয়োজন।
হামলা- মামলায় শেখ মুজিব কে দমানো যায়নি একবিন্দু ,
‘৬৯’এ তাই তো তিনি হলেন বঙ্গবন্ধু।
বাঙ্গালি জাতি আচ করলো হায়েনার হবে ক্ষয়,
‘৭০’ সালের নির্বাচনে বাঙ্গালির নিরঙ্কুশ বিজয়।
দিশেহারা ঐ হায়েনারদল শুরু করলো অঘোষিত যুদ্ধ,
হায়েনা ঠেকাতে ৭১ এ ঝাঁপিয়ে পড়ল নর-নারী,যুবক-বৃদ্ধ।
নয়টি মাসে বাংলার জমিন ভাসলো রক্তের বন্যায়,
৩০ লক্ষ শহিদের রক্তে ভেসেগেলো সব অন্যায়।
স্বাধীন বাংলায় বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার সফল নেতা,,
বহমানকাল বাঙ্গালি হৃদয়ে তিনি বাঙ্গালি জাতির পিতা।
দু-লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রম আর ত্রিশ লক্ষ শহিদের রক্তে অর্জিত এ স্বাধীনতা!
কী ভাবছো? রক্তে কেনা এ স্বাধীনতা!
নড়াইল




