হে মোর বাল্য সাথী, চির বহমান স্রোতস্বিনী;
আঁকাবাঁকা পথে চলিছ বহিয়া শান্ত উদাসিনী।
দুর শহরে বসিয়া আজ ভাবিতেছি তব কথা;
হৃদয় মাঝে বাজিয়া উঠিছে কি জানি গোপন ব্যথা।
ক্লান্ত শরীরে ছুটে যাইতাম তোমার বক্ষ পানে;
দূর করতে মোর সকল ক্লান্তি জোয়ার ভাটার টানে।
দু‘তীরে তোমার বাড়িয়া উঠিছে কতনা বিটপী সারী;
মাঝ বক্ষে তব ছুটিয়া চলিছে ছোট বড় বহু তরী।
মম চিত্ত হয় যে শান্ত তোমার স্নেহের জলে,
দূর দেশে থেকে মন শুধু চায় ছুটে যায় তব কোলে।
কত শঠতা কত যে ব্যথা রয়েছে হৃদয় ঘিরে;
সকল ব্যথা যাব ভুলে বসলে তব তীরে।
তব সলিলে নাহিয়া আমার মিটবে সকল সাধ,
কভূ যদি তুমি ব্যথা পাও তবে নিও না মোর অপরাধ।
শত কাঁদিয়াও অশ্রুজলে কমেনি যে গোপন ব্যথা;
তব শীতল জলের পরশে আজ নামানু সে ভার হেথা।
ওগো মোর প্রাণের চিত্রা বুঝিয়াছি আজ আমি;
দিবস–রজনী খুঁজেছি যাহারে সেইতো আমার তুমি।

