উম্মে হানি মেঘলা তরুণ লেখক প্রজন্মের এক অনন্য দৃষ্টান্ত ।। আশিকুল কায়েস ।।

আশিকুল কায়েস পোস্ট ।। রাতেরআকাশে মিটিমিটি করে জ্বলে ওঠাতারার মতই বাংলাদেশ তরুণলেখক পরিষদের কেন্দ্রীয় কলেজ বিষয়ক সম্পাদকউম্মে হানি মেঘলা। সাহিত্য, সংস্কৃতিক ও নেত্রীত্বদানে তারবিশেষ পারদর্শিতা অস্বীকার করার নয়। নেত্রীত্বদানেতিনি হলেন বীরঙ্গনা। যিনিসর্বপ্রথম বোরহান উদ্দীন পোষ্টগ্রাজ্যুয়েট কলেজে মহিলা হিসেবেতরুণ লেখক পরিষদের নামলিখিয়েছেন। সৃজনশীল সাহিত্যকর্মে এক ধাপ পিছিয়েপড়া মহিলাদের সাহিত্যের দিকে ধাবিত…


আশিকুল কায়েস পোস্ট ।।

রাতেরআকাশে মিটিমিটি করে জ্বলে ওঠাতারার মতই বাংলাদেশ তরুণলেখক পরিষদের কেন্দ্রীয় কলেজ বিষয়ক সম্পাদকউম্মে হানি মেঘলা। সাহিত্য, সংস্কৃতিক নেত্রীত্বদানে তারবিশেষ পারদর্শিতা অস্বীকার করার নয়। নেত্রীত্বদানেতিনি হলেন বীরঙ্গনা। যিনিসর্বপ্রথম বোরহান উদ্দীন পোষ্টগ্রাজ্যুয়েট কলেজে মহিলা হিসেবেতরুণ লেখক পরিষদের নামলিখিয়েছেন। সৃজনশীল সাহিত্যকর্মে এক ধাপ পিছিয়েপড়া মহিলাদের সাহিত্যের দিকে ধাবিত করারপ্রয়াস তিনিই করেছেন। ফলশ্রুতিতেবোরহান উদ্দীন কলেজের প্রাক্তনসাধারণ সম্পাদক নিখিল চন্দ্র বাউল(উত্তর কোরিয়ায় অবস্থানরত) এর মেয়াদ উত্তীর্ণহবার পর তিনই প্রথমনেত্রীত্বদানকারী মহিলা লেখক সাধারণসম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণকরেন। বোরহান উদ্দীন পোষ্টগ্রাজ্যুয়েট কলেজে লেখক পরিষদের শাখাটিকিয়ে রাখতে তিনি সাধ্যমতচেষ্টা করেছেন।তিনি ছিলেন প্রকৃতির প্রেমে পাগল। প্রাকৃতিক রূপ লাবণ্যের অমৃতস্বাদ গ্রহণের মধ্যেই নিজেকে বেধেরাখেননি, তিনি তার চিন্তাশক্তিকে রূপ দিয়েছেন বিভিন্নগল্প কবিতার মাধ্যমে।যা নিজ কলেজের সাহিত্যবিভাগ তরুণ লেখক পরিষদেরমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে অনবরত। সাবলীলভাষা ব্যবহার করে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকেএতো ভালোভাবে উপস্থাপন পাঠকের মনকেসহজে মনোরঞ্জন করা যায় তারবেশকিছু লেখা থেকে আমিতা স্পষ্টভাবে ধারনা পেয়েছি।২০১৪ সালের বাংলা একাডেমীর একুশে গ্রন্থমেলায় তরুণ লেখক পরিষদের মাধ্যমে প্রথম জাতীয় লেখক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেন। তার প্রকাশিত একক গল্পগ্রন্থ ‘আলো আধারের মেয়ে’ ও কবিতা গ্রন্থ ‘অভিলাষ’ তার জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌছে দেয়।

অল্প দূরত্ব থেকে দেখা এই মানুষটিকে সম্বোধন করার মতো ভাষা আমার হয়তো নেই। লেখক পরিষদের জন্য বোরহানুদ্দীন কলেজে তার অবদান অবিনশ্বর। কলেজেএক কাপ উত্তাল চায়ের আড্ডা” “সাহিত্য চক্রসময়ে অসময়ে কেন্দ্রের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে বিশেষসভাআয়োজন, একুশে গ্রন্থমেলায় তরুণ লেখক পরিষদ লেখকদের স্বার্থে নিজেকে নিয়োজিত করা (অল ইন অল) সবকিছুই শ্রেণীবিন্যাস করে সফল করার মত গুণ এই মানুষটির মধ্যে আছে।
বাংলাদেশ তরুণ লেখক পরিষদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয় ২০১৪ সালে। ২০১৪ সালের একুশে গ্রন্থমেলায় বাংলাদেশ তরুণ লেখক পরিষদ দেশের তরুণ কবি/সাহিত্যিকদের ব্যাপারে বিশেষ অবদান রাখে। একুশে গ্রন্থমেলার কার্যক্রম সমাপ্ত হবার পর ২য় বারের মতো কেন্দ্রীয় নির্বাচনের ডাক দেওয়া হয়। যথারিতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে পরিষদের উপদেষ্টা সম্পাদকমণ্ডলীর নির্বাচন সম্পন্ন হয়। এসএমএস পদ্ধতিতে কেন্দ্রীয় সভাপতি সদস্য নির্বাচনে এই প্রথম যুগান্তরগামী পদক্ষেপ। নির্বাচন ইসতেহারে প্রকাশ করা হয় ২০১৪ সালে কেন্দ্রীয় নির্বাচনে ঢাকাস্থ কলেজের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা বহির্ভুত জেলা পর্যায়ের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকগণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে ঢাকা থেকে সাধারণ সম্পাদক সভাপতির মধ্যে যে জন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন তার মধ্যে উম্মে হানি মেঘলা ছিলেন অন্যতম। উপদেষ্টা নির্বাচনের পরপরই শুরু হয় ব্যাপক নির্বাচনী প্রচারণা অভিযান। পরবর্তীতে উপদেষ্টা পরিষদ কেন্দ্রের নির্বাচন এসএমএস পদ্ধতিতে গ্রহণ না করে তাদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাচন কার্যক্রম অন্যভাবে সমাপ্ত করেন। দেশের বিভিন্ন কলেজ থেকে অংশ গ্রহণ করা লেখকদের মধ্যে মাত্র তিন জন কেন্দ্রে স্থান দখল করে নেন, তার মধ্যে মেঘলাকে কলেজ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। মেঘলার অনন্য অবদান বর্তমানে শুধু একটি কলেজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, দেশের সাহিত্যাঙ্গণে বিভিন্ন কলেজে তার একচ্ছত্রীয় অবদান স্বীকার করার মতো। খররোদ্র দুপুরে কঠিন সময়ে সামান্য মেঘের খন্ড যখন মানুষকে স্বস্তির নিশ্বাস ফিরিয়ে দেয়, বাংলাদেশ তরুণ লেখক পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য উম্মে হানি মেঘলার অনন্য অবদান দেশের তরুণ প্রজন্মকে একিদন উচ্চ শেখরে পৌঁছে দেবে। তারুণ্যের চাওয়া আছে অনেক, তারুণ্যর হাতে ঝান্ডার তুলে দিয়ে আলোর পথ দেখাতে হবে, সাহিত্য চর্চা মনের খোরাককে লেখনির মাধ্যমে প্রকাশ করে বিবেককে জাগ্রত করতে হবে। মেঘলার মত অকুতোভয় বীর যদি তরুণ লেখক পরিষদের সাথে থাকে আর আমরা যদি মেঘলার মত ভাবতে শিখি তাহলে দেশের সুশিক্ষা নিশ্চিত সহ তরুণ লেখকদের উন্নতি হবে সুনিশ্চিত।


আশিকুলকায়েস, সভাপতি, বাংলাদেশ তরুণ লেখক পরিষদ

Related posts

হাঁড় ।। শচীন্দ্রনাথ বিশ্বাস ।।

আমার বয়স আজ আঠাশএকাত্তরের উৎকণ্ঠায় আমার কান্না শোনেনি কেউ সেদিন২৫ শে মার্চের বিষাক্ত রাতের আগুনে জন্মতারিখের পঞ্জিকা ভশ্মে মিশেছে।নয়’মাস পরে…

Read more

চেনা-অচেনা ।। কে. এস. সাদিয়া জামান ।।

পৃথিবীর বুকে মানুষ আছে কতআকাশে হয়তো তাঁরাও নেই তত,মানুষের ভিড়ে পড়ে চেনা বড় দায়কোনটা আসল কোনটা নকল বোঝা মুশকিল।কত মানুষ…

Read more

চিত্রা পাড়ের মেয়ে ।। ফিলিমা নাজনীন মিরা ।।

হে মোর বাল্য সাথী, চির বহমান স্রোতস্বিনী; আঁকাবাঁকা পথে চলিছ বহিয়া শান্ত উদাসিনী। দুর শহরে বসিয়া আজ ভাবিতেছি তব কথা;…

Read more

Leave the first comment