‘বলো দুর্গা মায়কী জয়’ আর মাত্র কয়েকটা দিন তারপর এই স্লোগানে মুখরিত হবে সারা বাঙলা। মন্দিরে মন্দিরে করা হবে আলোকসজ্জা ও সাজসজ্জা, উলুর ধ্বনি আর পণ্ডিত মহাশয়ের মন্ত্র ধ্বনিতে মুখরিত হবে চারিধার কারন “মা” আসছে জগত জননী, বিপদতারিণী মা দুর্গা আসছে আমাদের মাঝে। ‘মা’ সার্বজনীন এর সফল উদাহরণ যশোর ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, যশোর জেলা শাখা। ফিরে দেখা দুর্গা পূজা ২০১৬ যখন সারা বাংলাদেশে হিন্দু মুসলিম বিভক্তি সৃষ্টি হচ্ছে বাড়িতে ঢুকে হিন্দু গুরুকে হত্যা করা হচ্ছে পুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে মন্দির, খুন হচ্ছে মুক্ত চেতনার মানুষ। ঠিক সেই সময় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ যশোর জেলা শাখা একটি নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করে। যেহেতু “মা” দুর্গা সার্বজনীন তাই এই মহা উৎসবে যেন ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলে অংশগ্রহণ করতে পারে, সেই জন্য আহ্বান করা হয় প্রতিটা মন্দিরে দুর্গা পূজা কমিটি হিন্দু মুসলিম সমন্বয়ে গঠন করবার জন্য। এই আহ্বানের সাড়া দেয় যশোরের ১০জন মুসলিম ছেলে ও ১জন মুসলিম মেয়ে। তাদের নিয়ে গঠিত হয় হরিসভা সার্বজনীন মন্দিরের দুর্গা পূজা কমিটি ২০১৬। মৃনাল কান্তি দে’ কে আহ্বায়ক করা হয়। সদস্য সচিব প্রশান্ত ঘোষ, সেচ্ছাসেবক কমিটির আহ্বায়ক রায়হান সিদ্দিক, মন্দিরের যাবতীয় কাজই মুসলিম ছেলে ও মেয়েরা করে। তাঁরা হলেন রায়হান সিদ্দিক, হাসিবুর রহমান, মোঃ জাফর হোসেন, মোঃ সুজন হোসেন, মোঃ জিহাদ হোসেন, শাহিন ইসলাম বিশাল, সোহেল রানা মামুন, বাপ্পি, শাহরিয়ার, রনি, বিউটি খাতুন।
মায়ের প্রসাদ তৈরি করেন বিউটি খাতুন যা এক অভূতপূর্ব ঘটনা। সেই প্রসাদ দিয়ে মা দুর্গার পূজা সম্পন্ন হয়। এমন দৃশ্য আর কোথাও কখনও দেখা যায় নি। আর এই অসাম্প্রদায়িক চেতনার উদ্ভাবক বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ যশোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক দীপংকর দাস রতন। বলা যায় তার একক প্রচেষ্টায় এমন একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ যশোর জেলা একটি অসাম্প্রদায়িক সংগঠন। এই আমাদের বাংলাদেশ, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। অতএব “মা” সার্বজনীন “মা” সকলের।




