এমন কিছু বিষয় এমন কিছু ঘটনা আজও আমাদের সমাজে পরিলক্ষিত হয়, হাতে গড়া সমাজের মানুষজন অন্যের ভালো দেখতে পারে না। আজও আমাদের দেশে সমাজব্যবস্থায় উঁচু নিচু ভেদাভেদের সৃষ্টি করে রেখেছে। গরিব মানুষের বড় লোক হওয়ার স্বপ্ন দেখতে নেই, কিছু কিছু সমাজ এই শিক্ষায় দেয়। যেমন শিক্ষা দিয়েছিল বাংলাদেশ তরুণ লেখক পরিষদের পাবনা জেলার সভাপতি অনিক আহমেদকে। তার লেখক হবার পেছনে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সমাজব্যবস্থা। লেখক অনিক আহমেদ এর স্বপ্নকে সমাজের মানুষেরা বারবার পায়ের নিচে ফেলে দলিত করেছে। কিন্তু থামিয়ে রাখতে পারেনি এই মহান লেখককে। যিনি খুব তাড়াতাড়ি বাংলাদেশ তরুণ লেখক পরিষদ থেকে কবি কিংবা সাহিত্যিকের খেতাব পেতে যাচ্ছেন। কামার থেকে লেখক অনিক আহমেদ এ রূপান্তরিত হওয়ার পেছনে কালোত্তীর্ণ বাস্তবতা প্রকাশ করা হলো। যার মূল নায়ক অনিক আহমেদ।
![]() |
| অনিক আহমেদ |
যার কারনে আমার আর গান শেখা হয়ে উঠলো না । গ্রামের মানুষের কাছে অনেক উপহাসিত হলাম । তারপর গান শেখার ইচ্ছাটি নিজে থেকেই বাদ দিলাম । আর লেখালেখি তো করেই যাচ্ছি । আমার বাবা একজন দিনমজুর, মাঠে অন্যের জমিতে কাজ করে । তাঁর পক্ষে আমাদের তিন ভাই বোনের পড়াশোনার খরচ বহন করা সম্ভব না । যার কারনে ৭ম শ্রেণী থেকে আমি কাজ করা শুরু করি। কাপর কাঁটা, কাচি বানানো, এক কথায় বলা যায় আমি একজন কামার । এভাবেই কাজ করে পড়াশোনা চালাতে লাগলাম । ২০১৫ সালে দড়িভাউডাংগা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পাশ করলাম । বর্তমানে এখন পাবনা পলিটেকনিক এ মেকানিক্যাল বিভাগে ৩য় পর্বে পড়াশোনা করছি । কিন্তু এর মাঝে আমার লেখালেখির উপর একটা ঝড় বয়ে যায়, গান শেখা বাদ দেওয়ার পর আমি লেখালেখিটাকে শক্ত করে ধরি । আর এই খবরটাও আমার এলাকাতে ছড়িয়ে পড়ে । আবার আমাকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা শুরু হয় । আমি কোন দিকে নজর না দিয়ে আমার কাজ করে যাই । কিন্তু এক পর্যায় আর নিরব থাকতে পারলাম না । এলাকার লোকজন আমার বাবা–মাকে রাস্তা ঘাটে ধরে অপমান করা শুরু করে । ভাত পায় না তার ছেলে আবার লেখক হবে ! পদে পদে ধিক্কারের মুখোমুখি হতে লাগলাম । বন্ধুদের কাছেও অনেক উপহাসিত হলাম । যার কারনে আমি কারও সাথে মেলামেশা করতে পারতাম না ।
এরই ধারাবাহিকতায় নেমে আসে আমার পারিবারিক অশান্তি । যার একমাত্র কারন হলাম আমি এবং আমার লেখালেখি।. মনে মনে ভাবলাম আর কোনদিন এই ধরনের কাজ করবো না । যে কাজ করলে বাবা–মা সমাজে মুখ দেখাতে পারেনা, আমি ৩য় শ্রেণী থেকে লেখালেখি করি। আমার সমস্ত লেখালেখির অবসান ঘটিয়ে একপর্যায়ে দু:খ কষ্টে জর্জারিত লালিত হয়ে বাধ্য হই জমানো লেখালেখি পুড়িয়ে ফেলতে ! যেখানে ছিল ৩৮৪টি কবিতা, ৯২টি ছোট গল্প এবং ৫৭টি উপন্যাস । তাছাড়াও আমার ৭বছরের সাধনায় ৪টি সনেট । যে লেখার পিছনে আমি সবচেয়ে বেশী সময় ব্যয় করেছি। শেষ হলো আমার লেখালেখি । শান্ত হলো এলাকার জঘণ্য কলরব । আর তার কিছু দিন পর পাশের গ্রামের সেলিম স্যার এর মাধ্যমে আমার পরিচয় হয় বাংলাদেশ তরুণ লেখক পরিষদের সভাপতি আশিকুল কায়েস ভাইয়ের সাথে । আশিকুল ভাই আমাকে লেখালেখি করার জন্য অনেকবার বলেন । কিন্তু আমার মনে আবার সেই ভয়টি কাজ করতে থাকে। লেখালেখির জন্য যদি আবার আমার জীবনে কালো ঘন অন্ধকার নেমে আসে। এই ভয়। ভাইয়ার কথায় আমি আবার নতুন করে লেখার অনুপ্রেরণা পাই । তাই সকল লজ্জা ভুলে আবার লেখালেখি শুরু করলাম, তুলে নিলাম সেই কলঙ্ক দেওয়া কলমটি। কিন্তু আগের মত সেই শান্তিটা আর খুঁজে পাইনা । কোথায় যেন হারিয়ে গেছে । তখনও কামারের কাজ করছি, পড়াশোনা করছি আর সাথে লেখালেখি । এত বাধা অতিক্রম করে আজও আমার উপাধি কামার অনিক । আজও আমি গরম লোহার উপরে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করি । আসলে গরিব মানুষদের কোন স্বপ্ন দেখাও পাপ । এত কিছুর পরেও আমি বাবা মায়ের খুব আদরের সন্তানআব্দুল আহাদ । কারন এখন আমার মা আমাকে নিজে হাতে খাইয়ে দেয় ।



