সরকারের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য দায়ী হতে পারে তাদেরই ছাত্র সংগঠন || আশিকুল কায়েস ||

সময় এসেছে শিক্ষার্থীদের উপর অভিভাবকদের অভিভাবকত্ব ফলানো। উচ্চ শিক্ষার নামে আপনার ছেলে বা মেয়ে কি করছে ভেবে দেখেছেন কি?? কখনও খোঁজ নিয়ে দেখেছেন কলেজে ক্লাস হচ্ছে কিনা?ছেলে মেয়ে বড় হয়েছে নিজের বুঝ নিজেই বোঝে, কথাটা মাথায় নিয়ে আমার আপনার মত অভিভাবক যখন উচ্চ শিক্ষার নামে বছরকে বছর ঘুড়ি উড়ানোর মত নিজেদের…









সময় এসেছে শিক্ষার্থীদের উপর অভিভাবকদের অভিভাবকত্ব ফলানো। উচ্চ শিক্ষার নামে আপনার ছেলে বা মেয়ে কি করছে ভেবে দেখেছেন কি?? কখনও খোঁজ নিয়ে দেখেছেন কলেজে ক্লাস হচ্ছে কিনা?
ছেলে মেয়ে বড় হয়েছে নিজের বুঝ নিজেই বোঝে, কথাটা মাথায় নিয়ে আমার আপনার মত অভিভাবক যখন উচ্চ শিক্ষার নামে 
বছরকে বছর ঘুড়ি উড়ানোর মত নিজেদের ছেলে মেয়েদের নিশ্চিতে ছেড়ে দেয়। আর একারনেই উচ্চ শিক্ষিত হবার পেছনে তৈরি হয় কালো আবরণ। ফলে বিসিএস পাশ করানো ছেলের হাতেই মাকে লাঞ্ছিত হতে হয়। আর আপনাদের অবহেলার কারনে সমাজ সেবকদের বৃদ্ধাশ্রমের কথা চিন্তা করতে হয়।

ছাত্রলীগ, ছাত্রদল কিংবা শিবিরে নাম লিখালেই কি আপনার ছেলে মেয়ে নিরাপদ বলে মনে করেন??? যদি সেটাই মনে করেন তাহলে ছোট থেকেই চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজি, হামলা-পাল্টা হামলা, প্রতিরোধ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিন। তানা হলে নেতাদের চাপে আপনার ছেলে মেয়ে সর্বোচ্চ হুকুমজারির পোস্ট নাও পেতে পারে।

প্রতিহিংসার রাজনীতিতে নাম লিখিয়ে আপনার আমার মত কত মা-বাবার বুক খালি করেছে একটু ভেবেছেন?? আর আমরা আমাদের সন্তানদের রাজনীতিতে ক্যাডার হওয়াকে সমর্থন করি। যারা সমর্থনে মরিয়া একটু খোঁজ নিলেই মিলবে তার বাবা মায়ের অপর পৃষ্ঠার বিশৃঙ্খল কিছু কথা। দেখা যাবে ছাত্রবস্থায় তিনি ক্যাডারবাজি করেছেন, ফলে আজকে তিনি রাজনীতির শীর্ষে অবস্থান করছেন। আর ক্যাডারবাজির ছাত্রদের সঙ্গ দিয়ে একজন ছাত্র নিজেকে কি প্রমাণের আশা করতে পারে। সময় থাকতে অভিভাবকরা চোখ খুলুন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢাক সু নির্বাচন কেন হয় না তা বোধ হয় আজকের আন্দোলনে সবার কাছেই পরিস্কার। যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসুক না কেন, কোন দলই চাইবে না ডাক সু নির্বাচনের। কেননা তাদের ছাত্র সংগঠনের ক্যাডারবাজির দৌরাত্ম থাকবে না।

ছাত্র আন্দোলন আপনা আপনিই গড়ে ওঠে সেটা আজকের শিক্ষাঙ্গনে কোটা সংস্কারের আন্দোলন দেখলেই বুঝা যায়। ৫২ সালে ছাত্র আন্দোলনে রাজনৈতিক দল খুব বেশি ভূমিকা রেখেছিল সেটা বলা যাবে না, আন্দোলনের সম্পূর্ণ শক্তি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে কাজ করেছে। ইতিহাসে আমরা যে ছাত্র রাজনীতি নিয়ে গর্ব করি তা আজকের বাস্তবতায় ছাত্র গণ আন্দোলন বনাম রাজনৈতিক ছাত্র আন্দোলনের মুখোমুখি হতে বাধ্য করেছে। 

আর এটা থেকে স্পষ্ট নিজের অধিকার টিকিয়ে রাখতে এতদিনে জমে থাকা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ আজ বিস্ফোরণে রূপ নিয়েছে। যা ভাষা আন্দোলনের সময় নিয়েছিল। 

ক্যাডার রাজনীতিবিদ তাদের ক্ষমতার প্রমাণ দিতেই আজ তারা যৌক্তিক আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলা সহ ও বই পড়ার টেবিলে যাওয়ার হুমকি দেয়। যখন সংসদে সাধারণ শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা বলে আখ্যা দেয়া হয়, সভা সেমিনারে ছাত্রলীগের চাকরি ও টাকা পয়সা সমস্যা সমাধানের বিষয়ে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক যখন বক্তব্য উপস্থাপন করেন তাতেকরে স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে গণতন্ত্রের নামে এদেশে চলছে এক নায়কতন্ত্র।

আমি কোটা সংস্কারের আন্দোলন করি, আমার চৌদ্দ গোষ্ঠী খোঁজ নিলে দেখা যাবে সবাই আওয়ামীলীগের সাথে জড়িত। তারমানে আমরাও কি রাজাকার হয়ে গেলাম??? পূর্বপুরুষ সারাজীবন রাজাকারের বিরুদ্ধাচরণ করার ফলেও আজ রাজনৈতিক কর্তাব্যক্তিদের কাছ থেকে রাজাকারের বাচ্চা হবার কথা শুনতে হয়।

ক্যাম্পাসে অন্য একটি মেয়ের কাছে অপর একটি মেয়ের বস্ত্র হরণের কথা গণমাধ্যম যখন প্রচার হয় তখন এ লজ্জা কোথায় রাখি। আজ যখন সাধারন শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে বাধা দিতে সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রলীগ নেত্রী অপর এক ছাত্রীর উপর নির্যাতন ও রগকাটার বিষয়ে সংবাদ পাওয়া যায় তাতে করে লজ্জায় মুখ লুকিয়ে নয় বরং ছাত্রলীগের বিষ দাঁত ভাঙ্গার আর একবার এই আন্দোলন থেকে গণবিস্ফোরণের উদ্ভব হতে পারে এবং সরকারের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য দায়ী হতে পারে তাদেরই ছাত্র সংগঠন।

Related posts

প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে করণীয় ও কতিপয় পরামর্শ ।। আশিকুল কায়েস ।।

শিক্ষা জাতীর মেরুদন্ড। সেই শিক্ষার মেরুদন্ড যদি মেরুকরণের আগেই ভেঙ্গে যায় তাহলে দেশে মেধা শূণ্য হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনায় বেশি। উন্নত…

Read more

মারশাফির সামনে কান ধরে দাঁড়িয়ে মহানুভবতার শিক্ষা নিতে বড্ড ইচ্ছে করে ।। আশিকুল কায়েস।।

মাশরাফি বিন মর্তুজাকে নিয়ে লেখার কোন ভাষা এলে তা সবসময় এড়িয়ে চলি। বরাবরই মনে হয় অমন গুণেভরা ব্যক্তির সম্পর্কে বলতে…

Read more

তোমাকে বড্ড ভালোবাসি “মা” ।। আশিকুল কায়েস ।।

আর মাত্র কয়েকটি দিন। তারপর তোমার সমস্ত দুঃখ শেষ। ছোটবেলায় খিদের যন্ত্রণায় ছটফট করেছি, একটু ভাত দাও ভাত দাও করে…

Read more

Leave the first comment