প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে করণীয় ও কতিপয় পরামর্শ ।। আশিকুল কায়েস ।।

শিক্ষা জাতীর মেরুদন্ড। সেই শিক্ষার মেরুদন্ড যদি মেরুকরণের আগেই ভেঙ্গে যায় তাহলে দেশে মেধা শূণ্য হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনায় বেশি। উন্নত দেশে পরিণত করার চিন্তা হয়তো কথা কথা থেকে যাবে। বাড়বে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের প্রবণতা। শিক্ষাঙ্গণে শিক্ষার নামে যদি লুটপাটের সুযোগ দেয়া হয় তাহলে এই সুযোগটা একটি শিক্ষার মেরুকরণে গলার হাঁড়…

শিক্ষা জাতীর মেরুদন্ড। সেই শিক্ষার মেরুদন্ড যদি মেরুকরণের আগেই ভেঙ্গে যায় তাহলে দেশে মেধা শূণ্য হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনায় বেশি। উন্নত দেশে পরিণত করার চিন্তা হয়তো কথা কথা থেকে যাবে। বাড়বে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের প্রবণতা। শিক্ষাঙ্গণে শিক্ষার নামে যদি লুটপাটের সুযোগ দেয়া হয় তাহলে এই সুযোগটা একটি শিক্ষার মেরুকরণে গলার হাঁড় হয়ে যাবে।
অনেকেই অনেকভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকারকে পরামর্শ প্রদান করেছেন। এনিয়েও অনেক লেখালেখি হয়েছে। তারপরও প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে তেমন কোন সুফল হচ্ছে না। ফেসবুক কিংবা কোন গণমাধ্যম বন্ধ করলেই প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ হবে না। তাই দরকার যুগপোযোগি সিদ্ধান্ত।
বাংলাদেশ তরুণ লেখক পরিষদ প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে একটি পরামর্শ প্রদান করতে চায়। এই পদ্ধতি ব্যবহারে তেমন কোন অর্থ কিংবা কষ্ট হবে না। মাথা একটু খাটালেই এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার উপায় মিলবে। এটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য যে তথ্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে অসাধু ব্যক্তিরা প্রশ্নপত্র ফাঁস করে চলেছে অন্যদিকে তথ্য প্রযুক্তির অবয়ব সফলতা থাকা সত্বেও বারবার ব্যর্থতার প্রমান দিচ্ছে। এবার আসা যাক তথ্য প্রযুক্তিকে পুরোটা ব্যবহার না করে আংশিক ব্যবহারে করে কিভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করা সম্ভব হয়।

উপকরণ:
১। প্রশ্ন নির্বাচক কমিটি
২। ইন্টারনেট যুক্ত কম্পিউটার
৩। প্রয়োজনীয় ফটোকপি মেশিন
ব্যবহার:
প্রশ্ন নির্বাচন কমিটির কাজ হচ্ছে প্রতিদিন পরীক্ষা শুরু হবার ১৫ মিনিট পূর্বে প্রশ্ন নির্বাচন করা। সরকার/কর্তৃপক্ষ যেখান থেকেই নির্বাচন করুন না কেন- কোন অন্দর মহল কিংবা গোপন জায়গা থেকে করুন এতে আমার কোন আপত্তি নেই। এবার সবার মাথায় যে চিন্তার উদ্ভব হচ্ছেÑ প্রশ্ন কিভাবে শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মত পৌঁছানো সম্ভব? আমি তাদেরকেই বলছি একটু ধৈর্য্য ধরুন আস্তে আস্তে সকল বিষয় পরিস্কার করে দিচ্ছি।
পরীক্ষা যদি সকাল ১০টায় শুরু হয় তাহলে ১০টা বাজার আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে প্রশ্ন পৌঁছে দেয়া সম্ভব। গ্যারান্ডি আমি দিচ্ছি। স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরু হবার ১৫ মিনিট আগে আসন গ্রহণ করতে হয় ও একই সাথে খাতার আনুসাঙ্গিক কাজ শেষ করতে হয়। আমরা তাহলে পরীক্ষার সময়কাল ধরতে পারি সকাল ৯.৪৫ মিনিট। আর নির্বাচকরা তাদের দায়িত্ব নিয়ে প্রতিদিনের পরীক্ষার রুটিন অনুযায়ী ১০ সেট প্রশ্নপত্রের মধ্যে থেকে ১ সেট ৯.৩০টার মধ্যে প্রশ্ন নির্ধারণ করে দেন তাহলেতো কোন কথায় নেই। আর প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ারও কোন সুযোগ নেই। এবার আসা যাক কিভাবে পরীক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্ন পৌঁছে দেয়া যাবে। যা করার ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে করতে হবে এবং কেন্দ্রে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
প্রশ্ন নির্বাচক কমিটির দরকার ইন্টারনেট যুক্ত কম্পিউটার। এছাড়াও প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে থাকবে ইন্টারনেট যুক্ত একটি করে কম্পিউটার ও প্রয়োজনীয় ফটোকপি মেশিন। তাহলে বুঝতেই পারছেন প্রতিটি কেন্দ্রে ই-মেইলের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র পাঠিয়ে দেয়ার পর ফটোকপি মেশিনের সাহায্যে পরীক্ষার্থীদের হাতে নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বেই পৌঁছানো সম্ভব। একদিকে পরীক্ষার্থীরা খাতা পূরণের কাজ শেষ করলো অন্যদিকে প্রশ্ন ছাপা হতে থাকল। এ পদ্ধতি ব্যবহার করলে কোনভাবেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হবার সম্ভাবনা নেই। আর এই পদ্ধতির নাম আমি দিয়েছি ই-সিস্টেম। আমাদের দেশে তথ্য প্রযুক্তির যুগে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই কম্পিউটার বিষয়ের উপর পড়ালেখার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। বর্তমান যুগে কোন শিক্ষকের আইটি সেক্টর সম্পর্কে অজ্ঞতা থাকার কথা নয়।
তথ্য প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে অসাধু ব্যক্তিরা যেমন তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করছে ও তেমনি আমাদের মত সচেতন ব্যক্তিদের উচিত আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে অগ্রসরমান করে তথ্য প্রযুক্তির সাথে তাল মেলানো। আশাকরি এই পদ্ধতি ব্যবহারে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কার্যকরি ভূমিকা রাখবে।

Related posts

সরকারের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য দায়ী হতে পারে তাদেরই ছাত্র সংগঠন || আশিকুল কায়েস ||

সময় এসেছে শিক্ষার্থীদের উপর অভিভাবকদের অভিভাবকত্ব ফলানো। উচ্চ শিক্ষার নামে আপনার ছেলে বা মেয়ে কি করছে ভেবে দেখেছেন কি?? কখনও…

Read more

মারশাফির সামনে কান ধরে দাঁড়িয়ে মহানুভবতার শিক্ষা নিতে বড্ড ইচ্ছে করে ।। আশিকুল কায়েস।।

মাশরাফি বিন মর্তুজাকে নিয়ে লেখার কোন ভাষা এলে তা সবসময় এড়িয়ে চলি। বরাবরই মনে হয় অমন গুণেভরা ব্যক্তির সম্পর্কে বলতে…

Read more

তোমাকে বড্ড ভালোবাসি “মা” ।। আশিকুল কায়েস ।।

আর মাত্র কয়েকটি দিন। তারপর তোমার সমস্ত দুঃখ শেষ। ছোটবেলায় খিদের যন্ত্রণায় ছটফট করেছি, একটু ভাত দাও ভাত দাও করে…

Read more

Leave the first comment