টমি নামের কুকুরটির আজ খুব মন খারাপ। তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরার কোনো তাড়া নেই। ঘেউ-ঘেউ করে কাঁদলেও আজ আর কেউ ওকে খাবার দেয় না। অথচ ওর মনিব যাওয়ার সময় বলেছিল, আমি না থাকলেও তোর অযত্ন হবে না। সবাই তোকে খুব আদর করবে। তোর কোনো ভয় নাই। কিন্তু বেচারা টমি আজ দু’দিন না খেয়ে আছে কেউ সেটা লক্ষও করে না। খাবারের জন্য ঘেউ-ঘেউ করলে উল্টো আবার কেউ লাঠি নিয়ে তেড়ে আসে। এই হচ্ছে টমির প্রতি লক্ষ রাখার নমুনা। বেচারা টমি! কতক্ষণ আর এত অবহেলা সহ্য করবে। জীবনে যে টমি না চাইতেই খাবার পেয়েছে, আদর পেয়েছে অফুরন্ত। সেই টমিকেই আজ অভুক্ত অবস্থায় এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে। কতক্ষণ আর এরকম না খেয়ে থাকা যায়। এদিকে ওর মনিব চলে গেছে নিজের সংসারে, আর কোনোদিন আসবে বলে মনে হয় না। এসব কথা ভাবতে-ভাবতে কখন যেন পাশের জঙ্গলে ঢুকে পড়ল টমি। আরও একটু ভিতরে ঢুকতেই একদল জংলি কুকুরের সামনে পরে গেল টমি। ভয় পেয়ে একটু পিছিয়ে গেল ও। ঘেউ-ঘেউ করে তেড়ে এল কুকুরগুলি। পাশ থেকে বয়স্ক এক কুকুর সবাইকে থামতে বলে টমির কাছে এসে দাঁড়াল। বলল, “এ তো দেখি সাহেব কুকুর কোন গাঁও থেকে এসেছ?” অন্যসব কুকুরেরা একসাথে চেঁচিয়ে উঠল,
“এত মিষ্টি কথায় কাজ নেই। একে মেরে ফেলতে হবে। না হয় অন্য সব পশুরা আমাদের মেরে ফেলবে।” টমি খুব ভয় পাচ্ছিল। জড়সড় হয়ে গুটি-গুটি পায়ে যতটা সম্ভব পিছু হাটতে লাগল। মনে মনে ভাবল, প্রাণ বাঁচাতে এসে শেষে কিনা জংলি কুকুরদের হাতেই প্রাণটা যায়। দলের কুকুরদের চোঁচামেচি থামিয়ে বয়স্ক কুকুরটি বলল,
“চুপ কর তোমরা, ওকে কিছু বলতে দাও। হঠাৎ ও লোকালয় ছেড়ে জঙ্গলে কেন এল সেটা আগে জান, তারপর সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে।” বুড়ো কুকুরের কথায় টমি একটু ভরসা পেল। সেদিন সবাই চুপ করে টমির দুঃখের ইতিহাস শুনলো। ওর দুঃখের কথা শুনে সবার মন খারাপ হলো। কেউ-কেউ এসে টমিকে আদর করে চোখ মুছিয়ে দিতে লাগলো। আবার একজন এসে টমিকে জড়িয়ে ধরে বলল,
“তুমি এখন থেকে আমাদের সাথে জংলি হয়েই থাকবে, লোকালয়ে গিয়ে কাজ নেই। তোমাকে আমাদের রাজার কাছে নিয়ে যাব।”
“তোমাদের আবার রাজা কে?” রাজার কথায় চমকে উঠল টমি।
“ভয়ের কিছু নেই, সিংহ হলো আমাদের পশুদের রাজা। এই জঙ্গলে এমনিই পশুর সংখ্যা কম। তোমাকে পেলে রাজা খুশিই হবে। তার উপর তুমি হলে গিয়ে লোকালয়ের শিক্ষিত কুকুর। শিক্ষিত কুকুর বলাতে টমি খুব খুশি মনে অন্য কুকুরদের সাথে হাটতে লাগল। একসময় ওরা গভীর জঙ্গলে ঢুকে পরল। সেখানে রাজার মাসিক মিটিং চলছিল। মিটিং এর বিষয় হলো ‘কিভাবে চাঁদে যাওয়া যায়’ কারন প্রত্যেক বন্যায় এই জঙ্গল থেকে অনেক পশু মারা পরে, তা ছাড়া অনেক বিজ্ঞানীরাও গবেষণা করে জানতে পেরেছেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে নাকি বন্যায় অনেক নিম্নাঞ্চল গভীর সমুদ্রে তলিয়ে যাবে। তাই বাঁচতে হলে এখনি কিছু একটা করতে হবে। দূর থেকেই টমি দেখতে পেল রাজা এই বিষয় নিয়ে বেশ চিন্তিত।
(আসছে পর্ব-0২)
লেখক : জিনাত নাজিয়া, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য, বাংলাদেশ তরুণ লেখক পরিষদ