এক ব্যর্থ প্রেমিক ।। আতিক হাসান ।।

রাত ৩ টা। রাস্তা দিয়ে এলিয়েন ভঙ্গিমায় হাটছি। লম্বা সরু রাস্তা। আমার সাথে বন্ধু তনয়ও আছে। সে চিৎকার করে গান গাইছে। অনেক দিন নাকি গলা ছেড়ে গান গাওয়া হয় না। আমিও শুরু করলাম। মনের মাঝে তৈরী করছি আর গাইছি। কেউ যদি পাগলের প্রলাপ বলে তাহলে তার দোষ দেওয়ার সুযোগ নাই।…

রাত ৩ টা। রাস্তা দিয়ে এলিয়েন ভঙ্গিমায় হাটছি। লম্বা সরু রাস্তা। আমার সাথে বন্ধু তনয়ও আছে। সে চিৎকার করে গান গাইছে। অনেক দিন নাকি গলা ছেড়ে গান গাওয়া হয় না। আমিও শুরু করলাম। মনের মাঝে তৈরী করছি আর গাইছি। কেউ যদি পাগলের প্রলাপ বলে তাহলে তার দোষ দেওয়ার সুযোগ নাই। কিছুটা অন্ধকার হলেও বাকা চাঁদ মিটমিট করে জ্বলছে। হঠাৎ পা পিছলে পড়ে গেলাম। কিন্তু অবাক হইনি। কেননা রাস্তায় উষ্টা খাওয়ার অভ্যাস ছোটবেলা থেকেই আছে। তনয়কে জিজ্ঞাসা করলাম, তোর তমা কেমন আছে? সাথে সাথে গান থামিয়ে চুপ করে রইলো। আমি আবার জিজ্ঞাসা করলাম। সে এবার বলল, মনে হয় ভালোই আছে। কিন্তু তার কথার সাথে করুনত্বের মিশ্রন লক্ষ করলাম। তাই আবার বললাম। কোথায় আছে ও? সেই যে এক বছর আগে ও আমাকে দুষ্টুমি করে বলেছিলো তোরা নাকি বিয়ে করেছিস!! পরে তোর থেকে জানলাম, এটা সত্যি ছিল না। মেয়েটা তোকে অনেক ভালোবাসে। তোর জন্য হাসিমুখে মরতে পর্যন্ত রাজি। একবার তোর হাত সামান্য কাটাতে ও পাগলের মত চিৎকার করতেছিলো। তখন আমি ভয় পেয়েছিলাম, তোর তো কিছুই হবে না, ওকেই হয়ত হসপিটালে নিতে হবে। তোকে কত্ত ভালোবাসে! কিছু ভালোবাসা অবাক করে দেয়!! এত ব্রিলিয়েন্ট ছাত্রী হয়েও কোন পাবলিকে ভর্তি হলো না। কোটিপতি বাপের মেয়ে হয়েও তোর সাথেই নরমাল প্রাইভেট ভার্সিটিতে ভর্তি হলো। আমার মনে আছে, তোরে না দেখলে কি রকম পাগলের মত করে। যাই হোক ও অাছে কোথায়?
– স্বামীর বাড়িতে।
– স্বামীর বাড়িতে মানে? বিয়ে হলো কবে?
– ৬ মাস ২৩ দিন আগে।
– বলিস কি? সিরিয়াস?
– হুম।
– কেমনে কি? বুঝলাম নাতো কিছুই।
– ওর বাবাকে তো জানিসই, কত ভয়ঙ্কর! জোর করে বিয়ে দিয়ে দিয়েছে।
– তুই কিছু করলি না?
– কি করবো?
– তুই বিয়ের প্রস্তাব দিতি।
– কিভাবে দেব? ও আমার কথা বলেছিল। তাই ওকে অনেক মেরেছে। বিষ খেয়ে মরতে গিয়েছিলো। ভাগ্যিস ওর ছোট বোন দেখে ফেলেছে।
– তারপর?
-পরে আর কি! প্রথম প্রথম ফোন করে খুব কান্নাকাটি করতো। এখন আর আগের মত নাই। অনেকটা বদলে গেছে।
– কথা হয় না?
– না।
– আমি কল রিসিভ করি না। শুধু শুধু কষ্ট বাড়িয়ে লাভ কি?
– তোর খারাপ লাগে না?
– লাগে! এখন একটু কম লাগে।
বলেই ফুপিয়ে কাঁদতে শুরু করলো।
– কিরে কাঁদছিস নাকি?
কাঁদতে কাঁদতেই বলল, আল্লাহ কেন আমাকে এত কষ্ট দিল? কি দোষ করেছি আমি?
আমি বললাম কাঁদিস না। পৃথিবীতে এমন ঘটনা অনেক আছে। না কেঁদে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা কর! সেটাই ভালো হবে।
– ভুলে যাওয়ার চেষ্টা তো কম করিনা। পারিনাতো! মাঝে মাঝে মনে হয় নিজেকে শেষ করে দেই। কিন্তু আত্মহত্যা মহাপাপ এই ভেবে পারিনা!!!
– দুঃখ করিস না। চল…
তারপর সমস্ত চিৎকার বন্ধ করে ভেতরে আফসোসের পাহাড় গড়ে এক ব্যর্থ প্রেমিকের সাথে হাটতে থাকলাম!!!!!
সভাপতি, কবি নজরুল কলেজ, বাংলাদেশ তরুণ লেখক পরিষদ

Related posts

প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে মোহাম্মদ সোহেল এর কতিপয় পরামর্শ

প্রশ্নপত্র ফাঁসের হাত থেকেরেহাই পেতে আমার চিন্তা বা ভাবনা উপস্থাপনা করছি।১.একটি বাক্সে প্রশ্নের সিলগালা খাম টি রাখা থাকবে।২.বাক্সের মুখ আধুনিক…

Read more

বিরহ যন্ত্রণা ।। মোঃ লোকমান হোসেন শিশির ।।

বিরহ যন্ত্রণায় ক্ষণিকের আনন্দ ঘনভূত আমার জীবনক্লান্ত-শিক্ত অশ্রু আমার খোঁজে কার আশ্রয়-ভূবন ঘুরিয়া নাহি পেলাম নাহি পেলাম সুখ,আহা বারবার টানে…

Read more

বর্তমান আমি ।। মেহেদি হাসান ।।

অতীত আমি গেছি ভুলিমনের সুখে নিরাই ইরি।মাটিতে হাঁটু ফেলিমাথাটা নিচু করিমাটিটা খামচি ধরিআগাছাগুলো ফেলছি তুলি।ক্লান্তি তখন আসে ঘিরিহারানো দিনের গানগাইতে…

Read more

Leave the first comment