আশিকুল কায়েস ।। সুন্দরবন স্কয়ার সুপার মার্কেট ও পাতাল মার্কেটের পশ্চিম পার্শ্বের সিড়ির দেয়াল সংলগ্ন গড়ে উঠা ফুটপাত ব্যবসায়ীদের দ্বৈরাত্যতা খুব বেশি চরমে পৌঁছে গেছে। ঈদকে সামনে রেখে জনসাধারনের ভোগান্তির শেষ নেই। ফুটপাতের উপর দিয়ে আসা জনসাধারনকে প্রতিনিয়ত হকার ব্যবসায়ীদের নিকট লাঞ্ছিত হতে হয়। কখনও কম আবার কখনও বেশি। কম বয়সী যুবকদের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের চড়াও এবং বাজে ব্যবহারের দ্বৈরাত্যটা বেশি দেখা যায়। নির্বিঘেœ রাস্তা পার হবার জন্য যখন কোন ব্যক্তি এই ফুটপাত ব্যবহার করে থাকেন তখন রাস্তার অনিশ্চিত দুর্ঘটনার থেকেও ব্যবসায়ীদের কবলে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভবনা একটু বেশিই নিশ্চিত থাকে। ফুটপাতের উপর ত্রিপল দিয়ে একপ্রকার স্থায়ীভাবে ব্যবসায় করার স্থান হিসেবে দখল করে নিয়েছে এই হকার ব্যবসায়ীরা। ফুটপাতমুক্ত অভিযান চালানোর সময় তাদের মালামাল অন্যত্র সরিয়ে রাখা হয়, আবার উচ্ছেদ অভিযান শেষে ব্যবসায়ের কার্যক্রম শুরু হয়।পাতাল মার্কেটের সিড়ি এবং মার্কেটের দেওয়াল দুইপাশেই এই হকারদের ব্যবসায় কার্যক্রম; আর মাঝ বরাবর সরু রাস্তা, যেকেউ এই রাস্তা ব্যবহার করতে চাইলে প্রথম থেকে শেষ দোকান অব্দি তাকে সতর্কতার সাথে পথ চলতে হয়। কেনাকাটার প্রতি কোন প্রকার আগ্রহ না থাকলেও হঠাৎ দোকানদারগণ জনসাধারনের হাত টেনে ধরে গতি রোধ করেন কিংবা হাতের মোবাইল কেড়ে অথবা শার্টে ঝুলানো সানগ্লাসটাও মাঝে মধ্যে ব্যবসায়ীগণ হাতের মধ্যে নিয়ে কব্জা করে ফেলেন। এধরনের আচরণ সম্পর্কে তাদের নিকট কোন কৈফিয়ত জানতে চাইলে সচারচার উত্তর এধরনেরই হয়ে থাকে, “নিয়েছিতো কি হয়েছে, খেয়ে ফেলবো নাকি” একজন অসহায় জনসাধারণের পাশে অন্যকোন ব্যাক্তি না দাঁড়ালে বড্ড বিপদে পড়তে হয়। পাশে দাঁড়ানো ব্যক্তির যে বিপদে পড়তে হয় না তাও নয়, সমস্ত ব্যবসায়ীরা একজোট হয়ে জনসাধারনকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করে থাকে। অর্থাৎ জোর যার মুল্লুক তার, গুলিস্থানের জনসাধারনের ব্যবহৃত ফুটপাতের সড়কটি ফুটপাত ব্যবসায়ীদের মুল্লুকে পরিণত হয়েছে। প্রায় ৪ বছর ধরে এই রোড ব্যবহার করে আসছি অভিজ্ঞতা আর কম হলো না, কখনও নিজের সাথে আবার নিজের চোখের সামনে কোন ব্যক্তিকে কাঁদতে দেখেছি। কখনওবা চোখের সামনে জনসাধারনকে তাদের হাতে মার খেতে দেখেছি। তাদের সিন্ডিকেট প্রতিরোধ করে অসহায় ব্যক্তির পাশে দাঁড়ানোর ক্ষমতা আমার থাকে না। কেউ নিজের সম্মানটুকু বাঁচিয়ে চোখ-কান বুজে সহ্য করে তাদের লাঞ্ছনা। কোনভাবে সাধারনের উপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া অনুরোধের পোশাক দেখলেও বিপদে পড়তে হয়, চড়া দামে একপ্রকার পোশাকটি চাপিয়ে দেওয়া হয় কাঁধে। পকেটে টাকা না থাকলেও মোবাইল রেখে দেওয়ার ঘটনা দেখেছি আরও নানান অভিজ্ঞতা হয়েছে এই রাস্তা রাস্তা ব্যবহার করে। এরূপ ঘটনা দীর্ঘদিন যাবৎ চললেও প্রশাসনের কোন হস্তক্ষেপ নেই। নাকি প্রশাসন তাদের ইন্দন যুগিয়ে থাকে, নিজের কাছেই প্রশ্নবিদ্ধ। ঈদকে সামনে রেখে যেভাবে বেড়ে চলেছে তাদের দ্বৈরাত্যতা তা অনতিবিলম্বে সমাধান না করা হলে আরও কত জনসাধারণের এমন ভোগান্তিতে পড়তে তা আমার বোধগম্য নয়। তাই সরকার প্রশাসনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি জনস্বার্থে এবং জনভোগান্তিরোধে যত দ্রুত সম্ভব কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।
আশিকুল কায়েস
সভাপতি
বাংলাদেশ তরুণ লেখক পরিষদ
