মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ তরুণ লেখক পরিষদ।
চৌবাচ্চার শিমুল তলে গোবর কুড়ানী মেয়ে,
রোজ বিকালে কুড়াতো গোবর একটি ঝুড়ি নিয়ে।
জীর্ণ পোশাক,শীর্ণ দেহ,মাথায় চুল একরাশি,
পশ্চাত থেকে দেখায় যেন পাগলী এলোকেশী।
রুগ্ন দেহের এই মেয়েটির গাঁয়ের রংটি কালো,
কালো হলেও পদ্মলোচন,দেখতে যে সে ভালো।
হরিণ-চোখা এই মেয়েটির নামটি ছিল রীনা,
তার জীবনে বাজতো সদাই নীল কষ্টের বীণা।
ক্ষুধায় তাহার করুণ দশা,সারাটা দিন খেটে,
প্রতিদিন ই লাঠি-ঝাড়ু তার ভাগ্যে জোটে।
বিমাতার অত্যাচারে তার মৃত-প্রায় প্রাণ,
বাতাসেতে ভেসে আসে মধুর কন্ঠে গান।
মুখের পানে চাহিতে মোর সাহস নাহি পায়।
কেঁদে কেঁদে বুকটা ভাসায় ভুঁই-এর পানে চেয়ে,
বলে,”আমি কেউ নহিগো,গোবর কুড়ানী মেয়ে।
একে বাবা বদমেজাজি, মা মরেছেন তাতে,
সৎ মায়ের অত্যাচারে সারাটা দিন কাটে।”
যে সমাজের এমন দশা,কেমন মানুষ তারা?
সমাজের কেউ এদের ডাকে,দেয়না মোটে সাড়া।
অনেক দিন হয়,সেই মেয়েটির দেখা নাহি পাই,
হৃদয় থেকে ক্ষীণ স্বরে বেরিয়ে আসে হায়!



