 |
| বাচ্চু মিয়া |
এনক্রিপশন লিন্যাক্স, জিপিএস ক্যালিব্রেটর এবং সর্বশেষ থ্রীমা ব্যবহার করছে জঙ্গীরা
প্রাণঘাতী হামলার পর জঙ্গীসংগঠন কথিত আইএসের নামেতথ্য আপলোডকারীদের ধরতে ব্যর্থ হচ্ছেআইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এক্ষেত্রে শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের শ্রেষ্ঠ শক্তিধর দেশ বলে যারাদাবী করে তারাও ব্যর্থহচ্ছে। উগ্রপন্থীরা নিজেদের অবস্থান গোপন রাখতে তারাহাই এনক্রিপশন পদ্ধতি ব্যবহার করছে।আদান–প্রদানকৃত তথ্য মুছে ফেলতেব্যবহার করছে লিন্যাক্স অপারেটিংসিস্টেম। একই সঙ্গে জিপিএসক্যালিব্রেটর পদ্ধতিতে ভুল লোকেশ দিয়েবিভ্রান্ত করছে গোয়েন্দাদের।ফলে কেবা কারা কোন এলাকাথেকে টুইটবার্তায় দেশীয় সন্ত্রাসীরা আইএসেরনামে দায় স্বীকার করছেতা চিহ্নিত করতে পারছে নাগোয়েন্দারা। এই সুযোগে অধিকাংশঅপরাধী নিরপদে থাকছে। এপ্রসঙ্গেস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, কথিত সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপেরনামে একটি চক্র ঢাকাযসক্রিয়। দ্রতুই তাদের আিইনেরআওতায় আনা হবে। তিনিবলেন, উগ্রপন্থীরা বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারকরছে। তাদের ধরতে আরওআধুনিক প্রযুক্তি হাতে নিয়েছে গোয়েন্দারা।
সম্প্রতি দেশে প্রাণঘাতী হামলারপর দেশীয় সন্ত্রাসীরা কথিতআইএসের নামে দায় স্বীকারেরপ্রবণতা বড়াচ্ছে। গুলশানে ইতালি নাগরিক সিজারিওতাভেল্লা থেকে শুরু করেগুলশানে হলি আর্টিজানেমর্মান্তিক হামলা পর্যন্ত প্রতিটিঘটনায় দায় স্বীকার করেছেআইএস নামে দেশীয় সন্ত্রাসীরা।আইএসের নামে দায় স্বীকারেতারা ব্যবহার করছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি।প্রযক্তি জ্ঞানসম্পন্ন চক্রটি ক্লোজ গ্রুপেরমধ্যে তথ্য আদান–প্রদানকরছে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, দেশীয় উগ্রপন্থিদের মধ্যে একটি বড়সাইবার সংগ্রান্ত বিষয়ে দক্ষ, মূলতএরাই উচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহারকরছে গোয়েন্দা নজরদারী এড়াতে। যে এলাকাথেকে টুইটবার্তা আপলোড হচ্ছে তারভৌগলিক অবস্থান যাতে কেউ শনাক্তকরতে না পারে সজন্যজঙ্গীরা হাই এক্রিপশন পদ্ধতিব্যবহার করছে। এতে তাদেরভৌগলিক অবস্থান গোপন তাকছে। তথ্যপ্রযুক্তিরপ্রধান গেটওয়ে যে সার্ভারআছে সেখানেও ধরা পড়ছে না।এমনকি যেকোনো মোবাইল ফোন, এ্যান্ড্রয়েড সিস্টেম বা ইন্টারনেট প্রটোকল(আইপি) তথ্য গোপন তাকছে।অন্যদিকে লিন্যাক্স, অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে বিভিন্ন তথ্যমুছে ফেলছে চক্রটি। এসবমুছে ফেলা তথ্য উদ্ধারগোয়েন্দাদের জন্য খুবই কঠিন।একই সঙ্গে ভুল তথ্যদিয়ে গোয়েন্দাদের বিভ্রান্ত করছে জঙ্গীরা। এক্ষেত্রেতারা জিপিএস ক্যালিব্রেটর ব্যবহারকরছে। এ সফটওয়্যারের মাধ্যমেকেউ মতিঝিল থাকলে তারঅবস্থান দেখায় উত্তরায়, জঙ্গীরা এসব প্রযুক্তি ব্যবহারকরছে।
এদিকে গুলশানে হলিআর্টিজানের হামলাকারী জঙ্গীরা থ্রীমা অ্যাপস ব্যবহারকরে হত্যাকাণ্ডের বীভৎস চিত্র পাঠিয়েদেয় সাইট ইন্টেলিজেন্স এ।হাসনাত রেজা করিমের মোবাইলফোনে থ্রীমা ব্যবহার করেঘটনার বীভৎসতার চিত্র পাঠায়। গুগলেথ্রীমা সম্পর্কে জানা যায়, ২০১২সালে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে জার্মান বংশোদ্ভূতম্যানুয়েল ক্যাসপার এই অ্যাপসটি তৈরীকরেন। ২০১৩ সালে এটিএন্ড্রয়েড অ্যাপস হিসেবে চালুহয়। এটি জার্মান অ্যাপসহিসাবে সারাবিশ্বে পরিচিত। এখন পর্যন্ত এইঅ্যাপসটি ঘন্টায় সারাবিশ্বে ২লাখবার ব্যবহার হয়। থ্রিমা অ্যাপসব্যবহার করতে কোন ই–মেইল বা মোবাইলফোন নাম্বারের প্রয়োজন হয় না। এটিকিউ আর (কুইক রেসপন্স) কোড দিলে অন্য মোবাইলফোনের সঙ্গে যোগাযোগ করাসম্ভব। এই অ্যাপস ব্যবহারকারীদুইটি মোবাইল ফোনের মধ্যেতৃতীয় কোন ব্যক্তি কখনইপ্রবেশ করতে পারবে না।ই–মেইল নম্বর বামোবাইল ফোন নম্বরের প্রয়োজনহয় না বলে কারসঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে সেটিওশনাক্ত করা সম্ভব হয়না, গোয়েন্দার কিছু ক্ষেত্রে আধুনিকঅ্রাপস ব্যবহার করে বেশ কিছুজঙ্গীকে গ্রেফতার করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রজানায়, টুইটবার্তা আপলোড, সামজিক মাধ্যমেক্লোজ গ্রুপে তথ্য আদান–প্রদানকারীদের ধরতের কিছু নতুনপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। বিশেষকরে হাই এনক্রিপশন পদ্ধতিযারা গ্রহণ করছে তাদেরধরতে আইপিগুলো রেজিস্ট্রেশন জরুরী হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিমকার্ডের মতোইইন্টারনেট ব্যবহারকারী সকল প্রতিষ্ঠান আইপিরেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনতে হবে।এতে অপরাধীদের ধরার সুযোগ বাড়বে।সরকার ইতিমধ্যে এধরনের তথ্য উদ্ধারকরতে হ্যান্ডসেট রেজিস্ট্রেশনের কথা ভাবছে। নিরাপত্তাও জনস্বার্থে দ্রুত এ কার্যক্রমচালু হতে পারে।
সদস্য, কবি নজরুল কলেজ কমিটি, বাংলাদেশ তরুণ লেখক পরিষদ