![]() |
| আশিকুল কায়েস |
আশিকুল কায়েস ।। বাংলাদেশে জঙ্গী উত্থান এবং পতন নিয়ে যারাই বেশি আগ্রহ প্রকাশ করে, জঙ্গি উত্থানের জন্য পরিস্থিতি নয় বরং সেই সকল মানুষই দায়ি। লাঠি খেলা দেখাতে গিয়ে ছড়ি যখন ছিটকে অণ্যের কাছে পড়বে তখন কর্তৃত্ব হারিয়ে দর্শক হয়ে চেয়ে থাকতে হবে। বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থায় ক্ষমতা দেশের জনগণের হাতে থাকবে কিনা? সেটা আজকের আলোচনার বিষয় না হলেও জঙ্গীবাদের কারনে আগামী ২ বছর পর সবার সামনে ঐ প্রশ্নটাই এসে দাড়াতে পারে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার দলীয় দলগুলি দোসারপ করে বিগত দিনের সরকার দলগুলোকে। অপরদিকে বিরোধী দলগুলি জঙ্গীবাদের কারন হিসেবে দায়ি করে সরকার ভিত্তিক দলগুলিকে। জঙ্গীবাদ কিংবা তার আদর্শ নিজেদের মধ্যে নেই এটা সকল দলগুলি স্বীকার করে। এতটা আত্মবিশ্বাস থাকার পরও একই পাত্রে অবস্থান করে আমরা একে অন্যকে দুষি। এটাইতো আমাদের দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা। অথচ দুষাদুসির মধ্যে দিয়ে জঙ্গীবাহিনী তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। আজ এখানে হত্যা, কাল ওখানে গুম, পরদিন সেখানে জিম্মি করে একে অণ্যের দোসারপের পাল্লাটা ভারি করে দিচ্ছে। এতেকরে ক্ষতিটা হচ্ছে কাদের বেশি। দেশের মানুষ যেই হইনা কেন? জঙ্গীবাদের সাথে আতাত রেখে নিজেকে ক্ষমতাবান করার স্বপ্ন দেখে, নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য দেশ ও দেশের মানুষকে যখন অণ্যদেশের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার চিন্তা করে ও হাসির পাত্র হিসেবে ঠেলে দেয় আর যাইহোক সে কখনও মানুষ হতে পারে না। বরং সে অন্যদেেশর দালাল। আমরা সহজভাবে বুঝতে পারি জঙ্গীবাদের ধারনা যদি মানুষ হত্যা কিংবা বিদেশি অস্রসস্ত্রে সজ্জিত কোন গোষ্ঠি হয় তাহলে সেটা বাংলাদেশের মানুষদের পক্ষে সম্ভব নয়। দেশের যে গোষ্ঠি জঙ্গীবাহিনীর সাথে জড়িত তারা কাদের মদদে চলছে? নিশ্চয় বিদেশিদের এটা স্পষ্ট। কারন যেখানে দেশের সর্বচ্চ যুদ্ধ ভিত্তিক প্রশিক্ষনের ব্যাপারটা আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর উপর বর্তায়, আর তারা যখন জঙ্গীবাহিনী ও তাদের প্রশিক্ষনের কাছে হার মানে সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের জনগণ দ্বারা এটা সম্ভব হতে পারে না। আমরা আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত সহ সকল দলকে দুষে যাচ্ছি অথচ জঙ্গীবাদ দমনে বিদেশি সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখছি না এটা দেশ ও জাতির জন্য বিরাট ক্ষতির কারন হয়ে দাড়াবে। বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে আন্দোলন কিংবা মানুষের হাতে জঙ্গী দমনের নামে বাশের লাঠি তুলে দিলেই যদি জঙ্গী তৎপরতা বন্ধ হতো তাহলে মুক্তিযুদ্ধেরর মধ্য দিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারাতো না। এমনিতেই আপোস হয়ে যেতো। দেশের মানুষের মাথা আজকে নাড়া না পড়লেও ঐদিন ঠিকই পড়বে যেদিন উপায় খুজার কোন পথ থাকবে না। অবশেষে হাতের ছড়িটাই হারাতে হবে। তাই আসুন একে অন্যকে দোসারপ না করে সময় থাকতে সোচ্চার হই।
আশিকুল কায়েস, সভাপতি, বাংলাদেশ তরুণ লেখক পরিষদ

