“শুধু ভালো কর্মী হলেই হবেনা, ভাল ছাত্রও হতেহবে”। ভালছাত্র হতে গেলেতো দরকারসুস্থ একটা পরিবেশ। তবে প্রধান মন্ত্রীর কথাকি একটি কথার কথা?
গতরাতেইকথা চলছিল নিজেদের মধ্যে।ভেসে আসছিল করুণ আর্তনাদেরকিছু দীর্ঘশ্বাস, শুধুই কি কান্নানাকি বুক ফাটা আরঅসহ্য যন্ত্রনায় এক একটি দিনকরে বেঁচে থাকার পরিকল্পনা।সাইফ বলছিল ভাই আরসহ্য করতে পারছি না, আমরা কি মানুষ নই, এসমাজে কি আমাদের কোনমূল নেই, আমরা কিএতটাই ঘৃণার পাত্র। আমিওর কথা মুখ বুজেশুনছিলাম, ওর কথার কোনউত্তর আমার কাছে ছিলনা। সেতো অন্যায় কথাবলছে না। আমার স্তব্ধতায়গোটা রুমের মানুষদের কাছেএক রহস্যের জন্ম দেয়, তবেকি হতাশ হয়ে পড়েছি? নাকি তাদের বড় ভাই হয়ে প্রেরণার উৎস গলাটিপে হত্যাকরে চলেছি।
শাওনবলে উঠলো ঢাকা শহরেরমানুষদলের কাছে আমরা পশু।কে করেছে আমাদের পশুরূপীমানব। আমরা স্বাধীন দেশেবসবাস করে কেনইবা স্বাধীনভাবেবেঁচে থাকতে পারি না।
রায়হানতোআছে শুধু টাকশালের মেশিনেরকথা চিন্তা করে। এসমাজেযাদের বেশি টাকা আছেতারাই নাকি রাজত্ব করে।এশহরের সব ঘরবাড়ি টাকারমেশিনে ছাপা টাকা দিয়েইতৈরি। মানুষগুলোও বেচা কেনা হয়ওই টাকা দিয়ে। আমাদেরমত মানুষের অত টাকা কোথায়যে ভালবাসার জাল বুনে অন্যকাউকেকিছু বুঝাতে পারবো। সবাইটাকার কাছে পরাজয় বরণকরে।
সাইফগতরাতে বেরিয়েছিল বিকাশের জন্য একটি এ্যাডশুটিং করতে। বেচারাটার সস্থিনেই, আজ রাতে শুটিংস্পট থেকে ফিরে ওসহআজ সন্ধ্যায় আমরা বেরিয়েছিলাম বাসাখোজার কাজে। কেউ দেয়নিব্যাচেলর বাসা ভাড়া। এমনিতেইকিছু মালিক তাদের বাড়িতেব্যাচেলরদের ভাড়া দিয়ে রক্তচুষে খাচ্ছে। একটি রুমের যেপরিমান ভাড়া হওয়াটা যুক্তিসঙ্গত, বরং মালিকপক্ষ ব্যাচেলরদের ভাড়া দিয়ে দ্বিগুনহারেতাদের কাছ থেকে হাতিয়েনিচ্ছে কাড়ি কাড়ি টাকা।অথচ ব্যাচেলর ওরাই যারা পাশেরবাসার মাংশের ঘ্রাণ, দুইতলার বিরিয়ানি, তৃতীয় তলায় তেহেরি, চতুর্থ তলার নেহারির ঘ্রাণনাকে লাগিয়ে সপ্তম তলায়নিজের রান্না ঘরে এসেআলু ভর্তা আর ভাতচড়িয়ে দেয়, পেটে ভাতেরচাহিদা মেটানোর জন্য। ঐ বাসাওয়ালারাব্যাচেলরদের শরীরের রক্ত চুষতেচুষতে সাদা করে ফেলেছে।ঐসব ব্যাচেলরদের যখন আর কোনউপায় থাকেনা তখন বাধ্যহয় বাসাটা ছাড়তে। নতুনকোন ভাড়াটিয়া ব্যাচেলর এসে বাসা ভাড়াসম্পর্কে আলোচনা করলে বিগতভাড়াটিয়াদের দোহায় দিয়ে কমভাড়া দিতে কোনভাবেই রাজিহয় না। উপরন্তু তাদেরকাছ থেকে বিভিন্ন ছাপাইগেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করারচেষ্টা করা হয়।
অবাককরে দিয়েছিল রুমের সবাইকে যখনআমরা একটি ফ্লাট ভাড়ানেওয়ার জন্য দেখতে গিয়েছিলাম।সেটা ছিল গুদাম ঘরেরথেকে অভিন্ন নয়। তারপরওমনকে শান্ত করে একপ্রকারভেবেই নিয়েছিলাম ব্যাচেলরদের জন্য এর থেকেআর ভালোবাসা কি হতে পারে।দুই রুমের ফ্লাট। তাওআবার মালিক পক্ষ রান্নাঘরে একজনকে থাকার অনুমতিওদেয়। একটি ঘরের মধ্যেদিয়ে যেতে হয় অন্যএকটি ঘরে। মোটামুটি ৬জনঠেসে ঠেসে থাকতে পারেএই দুই ঘরে। বিল্ডিংএর চারপাশে ফাকা জায়গা থাকাসত্বেও কোন জানালা নেই।পুরাই অন্ধকার। অক্সিজেনের দারুন স্বল্পতা। চারপাশেফাকা জায়গা থাকা সত্বেওকেন জানালা রাখা হয়নিজানতে চাইলে বুঝতে পারলামউনারা আর আট–দশটাবাসাওয়ালাদের মত নির্দোয় না, কেননা তারা ব্যাচেলরদের সমস্যাটাবুঝতে পারেন বলে জানালারাখেনি। আমরাতো হতোবাক, তারমানে জানালার সাথে ব্যাচেলরদের একপ্রকারসম্পর্ক আছে। বাড়িওয়ালাই বললেনএই রুমে ব্যাচেলর ভাড়াদেওয়া হয় বলেই জানালারাখা হয়নি। তারমানে কতটাহেয়প্রতিপন্ন করে দেখা হয়ব্যাচেলরদেরকে।
অবশেষেমনস্থির করে বসলাম ফ্লাটটাযেভাবে হোক ভাড়া নিতেহবে। মাথা গুজার ঠাই৫–৭ দিনের মধ্যেকরতে না পারলে রাস্তারফুটপাতে গিয়ে উঠতে হবে।সেখানেও আবার চান্দাবাজ আরধান্দাবাজদের দ্বৈরাত্যতা আর পুলিশতো আছেই।আমাদের মত ব্যাচেলরদের কোথাওজায়গা হবে কিনা এ–কদিনেই নিশ্চিত হয়েগেছি। বাসাওয়ালীর কাছে গিয়েছি আমরাতিনজন। ভেবেছিলাম নরম মনের কাছেআমাদের দূর্বলতা প্রকাশ করলে কিছুটাকাজ হবে। আমাদের অসহায়ত্বএকটা পাথরকেও হার মানিয়ে দেয়।পাথরের যদি প্রাণ থাকতোতাহলে আমাদের কথাগুলো শুনেনিজে নিজেই খসে পড়েযেতো। কি আজব পৃথিবীরআজব মানুষ, প্রাণ আছেমনও আছে কিন্তু হৃদয়নেই। সর্বসাকুল্যে দুটো রুমের ভাড়াদেওয়ার কথা বলে ১৮হাজার টাকা। সেটাও নাকিআগের ভাড়াটিয়ারা থাকা অবস্থায় বহনকরেছে। কিন্তু আজ তারাকেন সেখানে নেই এরকারন হয়তো পাওয়া যাবেনা। ব্যাচেলর হয়ে বলতে পারিঐসব বাড়িওয়ালাদের রক্ত দান করতেকরতে আজ তারা মৃতপ্রায়, এজন্য তারা বাড়িতেনেই। অথচ একটা ফ্যামেলিবাসার ক্ষেত্রে দুই রুমের বিলাসবহুলফ্লাটে কোনকিছু অপূর্ণ না থাকাসত্বেও ভাড়া মাত্র ১০হাজার টাকার অধিক নয়।
দেশেরসরকার কি ব্যাচেলরদের কথাভাবেন না। নাকি তারাইবাড়িওয়ালাদের পক্ষে ছাফাই গাই।ঢাকাতে বাড়ী ভাড়ার নীতিনা থাকার কারনেই ব্যাচেলরদেরএত দূর্ভোগে পড়তে হয়। এইদূর্ভোগ দূরীকরণে সাধারন মানুষের পক্ষেসম্ভব নয়, যতই মিছিলমিটিং কিংবা সেমিনার করিনাকেন, সরকার এই দূর্ভোগসম্পর্কিত তথ্য নিয়ে কোনদিন ভেবেছে কিনা আমারজানা নেই। এযাবতকাল বাড়ীভাড়ারনীতি ও ব্যাচেলরদের দূর্ভোগনিয়ে লেখালেখি হলেও সরকার পক্ষকেন আড়ি করে চলেনসেটা আমার বোঝে আসেনা। আমার কাছে সন্দেহলাগে বাড়ীওয়ালাদের কথায় সরকার চলে? নাকি সরকারের কথায় বাড়িওয়ালারা চলে?
সাইফআমাকে বলেছিল ভাই, সহ্যকরার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিচলুন আমরা প্রেসক্লাবে গিয়েপ্রতিবাদ করি। বলেছিলাম, কিহবে প্রতিবাদ করে। কে শুনবেআমাদের কথা। ষরষের মধ্যেইতোভুতের আস্থানা থাকবে। আমরা সবাইব্যাচেলারের পক্ষে কথা বললেসরকার যখন একটু বেকেবসবে তখন আওয়ামী ব্যাচেলরপন্থীদেরআর খবর পাওয়া যাবেনা।রাস্তায় পড়ে থাকবো আমরাদুজন। এটা সব দলেরসরকারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতো যেটা বর্তমানসরকার করে যাচ্ছে।
ব্যাচেলরদেরহাহাজারি আর বাধভাঙ্গা কান্নারআওয়াজ কি সরকারি পক্ষেরনিকট পৌছে না। নাকিশুনেও না শুনার ভানকরে থাকেন। ব্যাচেলর অনেককষ্টে বেঁচে আছে ঢাকাশহরে। ব্যাচেলর নামটাই যেন বাড়িওয়ালাদেরনিকট অসুবিধেজনক। কতবাড়িতে ভাড়াটিয়া নাই, রুম ফাকাঅথচ ব্যাচেলরদের কোনভাবেই এলাও করা হয়না। জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেনতার প্রিয় ছাত্র লীগদের“শুধু ভালো কর্মী হলেই হবেনা, ভাল ছাত্রও হতেহবে”। ভালছাত্র হতে গেলেতো দরকারসুস্থ একটা পরিবেশ। অসুস্থপরিবেশ কোনদিন একজন ছাত্রকেভালো ছাত্র হতে দেয়না। এটা সবারই জানা।তবে প্রধান মন্ত্রীর কথাকি একটি কথার কথা? প্রধান মন্ত্রী কিজানেন? ঢাকা শহরের ৯০শতাংশই ছাত্র ব্যাচেলর? ছাত্রদেরপক্ষে প্রধান মন্ত্রীর মুখসৃতবাণী বের হলেও আসলেএটার ভিত্তি কতটুকু তাআমার সন্দেহ হয়। সরকারেরনিকট ব্যাচেলরদের পক্ষ থেকে আমারঅনুরোধ দয়া করে গ্রামথেকে উঠে আসা আলোরদিশারী ছাত্রদের নিয়ে একটু ভাবুন।যারা ঢাকা শহরে ব্যাচেলরহয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।
আশিকুল কায়েস
সভাপতি
বাংলাদেশ তরুণ লেখক পরিষদ