| আশিকুল কায়েস |
‘জঙ্গিবাদ’ এবং ‘ব্যাচেলর’ যেখানে শব্দ দুটোর মধ্যেই ব্যাপক ফারাক, সেখানে এই দুই গোষ্ঠি বা দলের মধ্যে কোন সম্পর্ক থাকার সম্ভাবনায় নেই। তারপরও সরকার প্রশাসন ব্যাচেলরদের কঠোর আইনের নজরদারিতে রেখেছে সারাক্ষণ। দৃষ্টিভঙ্গিটা যদি ব্যাচেলরদের উপর থেকে সরে জঙ্গিবাদের উপর বর্তায় তাহলে গ্রামে রেখে আসা স্ত্রী-সন্তানদের মুখে অন্ন তুলে দেবার জন্য নিশ্চিন্তে ঢাকায় পড়ে থাকা বাবা ব্যাচেলর, চাকুরিজীবি ব্যাচেলর, খেটে খাওয়া ব্যাচেলর এবং শিক্ষার্থী ব্যাচেলরদের মাঝে জঙ্গিবাদের সাথে জোরপূর্বক সম্পৃক্ততা চাপিয়ে দেওয়ার আতঙ্কটা কখনও ভর করে না। স্বভাবক্রমেই বাড়ীওয়ালারা সবসময়ই ব্যাচেলরদেরকে সর্প হয়ে দংশন করে চলেছে, ওঝা হয়ে বিষ ঝাড়ার কেউ নেই। বাড়ীভাড়াতো দিয়ে থাকে দরকষাকষির মাধ্যমে তার উপর প্রতিবছর বাড়ীভাড়া বাড়ানোর নোটিশ জারি। প্রত্যেক ব্যাচেলরের মনে আগামীদিনের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন থাকে। স্বপ্নপূরণের পরীক্ষায় ছুটতে গিয়ে অন্য কোন কিছু ভাবনার সময় তাদের হাতে থাকে না। এ কথার দ্বারাই স্পষ্ট যে, ব্যাচেলদের মধ্যে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটতে পারে না। বরং; কোন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে এই জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটে বলেই তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রূপ ধারন করে অভিনব কায়দায় তাদের তা-ব চালিয়ে যায়। হাতের একটি আঙ্গুল কেটে গেছে বলে সারা শরীরে ব্যান্ডেজ জড়াতে হবে এটাতো কোন চিকিৎসা হতে পারে না।
ঢাকা শহরের অলিতে-গলিতে বাড়িভাড়া সম্পর্কিত পুলিশের নোটিশ ও সেইসাথে সরকারি প্রশাসনের মুখে ব্যাচেলরদের কঠোর নজরদারীতে গণমাধ্যমে প্রচার সমগ্র ব্যাচেলর গোষ্ঠীকে হুমকীর মুখে ঠেলে দিয়েছে। এতেকরে হলি আর্টিজানের ঘটনার পর ব্যাচেলরদের ঘা শুকাতে না শুকাতে সেখান থেকে পুণরায় রক্ত ঝরতে শুরু করেছে। গণমাধ্যমে আইজিপি একেএম শহিদুল সাহেবের সম্ভবত জানা নেই- ঢাকায় যে সকল বাসায় ব্যাচেলর ভাড়া দেওয়া হয় অধিকাংশ বাসাগুলোতে জানালা রাখা হয় না। ভাড়াটিয়া ব্যাচেলরদের উপর বাড়ীওয়ালাদের নিষ্ঠুর আচরণ যে পরিমাণ স্বাধীনতা হরণ করে সেটার খবর বোধহয় পুলিশ প্রশাসনের কাছে নেই। আইজিপি সাহেব এর বক্তব্য অনুসারে, “বাসায় আসবাবপত্র কম, বিশেষকরে কোন টেলিভিশন না থাকা, জানালা দরজা বন্ধ করে রাখা, আশপাশের মানুষের সাথে মেলামেশা না করা, রাত করে বাসায় ফেরা” এরকম সিম্পটম দেখলে তাড়াতাড়ি পুলিশকে জানাতে বলেছেন। ঢাকা শহরে অবস্থানরত প্রতিটি ব্যাচেলরদের ঘর তল্লাশি করলে তাঁর বক্তব্যের সাথে হুবহু মিলে যাবে। একজন ব্যাচেলরের রাত যাপন করার জন্য কিবা আসবাবপত্র থাকতে পারে? মাথাগোজার জন্য একটা ছাদের তলা, দু’জনে শেয়ার করে থাকা একটি বিছানা, টিনের বাক্স কিংবা সর্বোচ্চ হলেও পড়ালেখার টেবিল। এছাড়া আর কি প্রয়োজন ? অর্থের অভাব কিংবা পড়াশোনায় ক্ষতির চিন্তা করে টেলিভিশনের ব্যবহার অনেক ব্যাচেলর বাসাতে নিষিদ্ধ হয়ে থাকে। তাঁর জরিপের তথ্যানুসারে বিচার বিশ্লেষণ করলে সন্দেহের তালিকায় সমগ্র ব্যাচেলর উঠে আসবে। কোন ব্যাচেলর এই তালিকার বাইরে থাকবে না।
ব্যাচেলর নামধারী ব্যক্তিরা অনেক কষ্টে দিনাপাত করে থাকে, সচরাচর বাহির থেকে কেউ বুঝতে না পারলেও ব্যাচেলরাই ব্যাচেলরদের কষ্টটা বুঝে থাকেন। তার উপর যদি মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে যায় তাহলে তাদের জন্য বেঁচে থাকা আসলেই মুশকিল। তাই সরকারের নিকট ব্যাচেলরদের পক্ষ থেকে অনুরোধ ভাড়াটিয়া ব্যাচেলরদের সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করুন। যাতেকরে একটু শান্তিতে বসবাস করতে পারে।
ব্যাচেলর ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষায় আইন প্রণয়নে ১০টি দাবী তুলে ধরা হলো
(১) যে সমস্ত বাসায় ব্যাচেলর ভাড়া দেওয়ার জন্য জানালা রাখা হয় না সেসমস্ত বাসায় জানালা তৈরির আইন চাই।
(২) জঙ্গিবাদ ইস্যুতে ব্যাচেলরদের হয়রানি করা চলবে না।
(৩) প্রতিটি বাসার গেটে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করতে হবে।
(৪) বাসা-বাড়ীতে ব্যাচেলরদের থাকার সু-ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
(৫) ব্যাচেলর বাসা ভাড়া নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে আইন করতে হবে।
(৬) গুদাম ঘর নয়, পরিত্যক্ত ভবন নয় বরং নিরাপত্তা বেষ্টিত ভবন চাই।
(৭) প্রতিটি বাসায় ব্যাচেলরদের থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে না পারলে সরকারি আবাসন চাই।
(৮) ব্যাচেলরদের প্রতি বাড়ীওয়ালাদের মানবিক আচরণ সহ চলাফেলার স্বাধীনতা চাই।
(৯) ব্যাচেলর সমস্যা সম্পর্কে অবগত করার জন্য সরকার পক্ষ থেকে কমপ্লেন বক্স ও সমাধান চাই।
(১০) কথায় কথায় বাড়ী ছাড়ার নোটিশ দেওয়া যাবে না।



