ভালোবাসার রং ।। আশিকুল কায়েস ।।

আশিকুল কায়েস ।। আমি কাউকে ভালোবাসি কি না বলতে পারবো না। তবে স্ব ইচ্ছায় না বললেও মনের মধ্যে চাপা অনুভূতি বারবার স্মরণ করিয়ে দেয় কেউ আমায় ভালোবাসে, আমিও নাকি তার ব্যতিক্রম নই।বিকেলবেলা শারিরিক ব্যায়াম কিংবা হাটাহাটি করার জন্য পার্কে যেতে বড্ড বেমানান লাগে। ক্যানটিন, হোটেল, পার্ক, আড্ডাখানা, পুকুরপাড়, লেক, বকুলতলা…


আশিকুল কায়েস ।। আমি কাউকে ভালোবাসি কি না বলতে পারবো না তবে স্ব ইচ্ছায় না বললেও মনের মধ্যে চাপা অনুভূতি বারবার স্মরণ করিয়ে দেয় কেউ আমায় ভালোবাসে, আমিও নাকি তার ব্যতিক্রম নই
বিকেলবেলা শারিরিক ব্যায়াম কিংবা হাটাহাটি করার জন্য পার্কে যেতে বড্ড বেমানান লাগে ক্যানটিন, হোটেল, পার্ক, আড্ডাখানা, পুকুরপাড়, লেক, বকুলতলা এলাকাগুলো যেন দুজন ছাড়া একদমই জমে না কয়েক যুগলের ভালোবাসার সন্ধিক্ষণে ছুয়ে যাওয়া হঠাৎ দমকা হাওয়া যেন নির্জন এলাকার অক্সিজেন সৌন্দর্য্য বর্ধনের ফুলের টব যেন ওরাই একটি ছেলে আর একটি মেয়ে


বর্তমানে ঐসব এলাকায় নতুন ফুলের টবে ভর্তি দেখতেও বেশ হিংসে লাগে আমার ভালোবাসার কাছে ওরা খুবই নগন্য ওদের বয়স আমার হাটুর সমানও নয় কি বোঝে ওরা ভালোবাসার?

ভালোবাসার টানে প্রায় তার কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতাম আমার ভালোবাসার মানুষকে অন্যকেউ দেখে নেবে নিজের কাছে ভাবনাটা ছিল খুবই অসস্থিকর তাই বোরখা পরার জন্য বেশ তাগিদও দিতাম ওকে বাটা শো রুমের সামনে দাঁড়ালে ক্লাস রুম থেকে আমায় সহজে দেখতে পেতো, ছিল দুষ্টুর সেরামনি, আমাকে একনজর দেখার জন্য জানালার ধারেই বসতো মনে মনে খুব খুশি হতো, যা আমিও চাইতাম সে চাইতো প্রতিদিন ওর জন্য আমি দাঁড়িয়ে থাকি সর্বসুখ যেন আমাকেই ঘিরে ওর ভালোবাসার টানেই আমি ছুটে যেতাম নিজের ভার্সিটি এমনকি কর্মস্থল ফাঁকি দিয়ে আমার কাছে ছুটে আসার হাত ছাড়া খুবই কম করতো কলেজ ছুটির পর শত শত ফরসা রমনীরা বোরকা পরে যখন কলেজ গেট থেকে বের হয় তখন আমার মানুষটিকে চিনতে একটুও ভুল করতাম না তবে এতটুকু সন্দেহ নিজের মধ্যে কাজ করতো, যদি ভুল করে অন্য কাউকে টুনি বলে ফেলি তাহলে ভীষণ রাগ করবে এই নামটা শুধু ওর আর আমার ভালোবাসার জন্য প্রযোজ্য ছিল টুনি আর আমি ছিলাম টুনা
লেকের ধারে গিয়েছিলাম পা দুটোকে একটু বিশ্রাম দিতে দেখেছিলাম ফুচকা খাওয়ার দৃশ্য প্রায়ই বিকেল বেলায় উদ্যান কিংবা খেলার মাঠে বিশেষকরে ভালোবাসার মানুষদের ফুচকা খাওয়ার দ্বৈরাত্যটা বেশিই চলে, ভালোবাসার সম্পর্কের মধ্যে যেন একপ্রকার ফুচকার অবস্থান আছে ভালোবাসা মানে পকেটে টাকা থাক আর না থাক নির্দিষ্ট সময়ে ফুচকা খেতেই হবে ফুচকা মানে কি সেটা জনই বা জানে?

ফুচকা খেতাম আমি আর টুনি ক্লাস শেষ অব্দি বাটা শো রুমের সামনে থাকাটা আমার প্রতি একপ্রকার কড়া নির্দেশ হয়ে পড়েছিল আমাকে একদিন না দেখলে যেন রাতে ঘুমানো বেশ কঠিন হয়ে পড়তো ওর জন্য আগামীদিনের সঞ্চয় মনে করে অর্থ বাঁচিয়ে ওর জন্য প্রতিদিনই পাক্কা ঘন্টা ১০ মিনিটের পথ হেঁটে যেতাম শুধুমাত্র স্পর্শকাতর ভালোবাসাটা অনুভব করার জন্য কথার ছলে আমাকে আটকে দিয়েছিল ফুচকা খাওয়ার ফাঁদে, ফুচকা খাওয়ার প্রথম স্বাদটা আমি ওর কাছ থেকেই পেয়েছি আমায় বলেছিল বিকেলবেলা বান্ধবীদের সাথে খেলার মাঠে যাবে ফুচকা খেতে, আমায় বেশ করে ধরেছিল তার সঙ্গে যেতেই হবে আমি জানতামরূপ, রস বিমোহিত করা তার চেহারার পাশে আমার অবস্থান একদমই চলে না তারপরও সে আমাকেই চায়, তার লাইফ পার্টনার হিসেবে তার পাশাপাশি দাঁড়িয়ে হ্যাংলা পাতলা  এবং শ্যামলা বর্ণের মানুষকে দেখে যখন তার বান্ধবীরা টিটকেরি দেবে তখন ওর মনে যে কষ্ট ভীড় করবে আমার জন্য, সেটা হয়তো সহ্য করতে পারবো না তাই ওর অনুরোধ আমি রাখতে পারি নি ঘটনার জন্য আমার উপর ভীষণ রেগেছিল, একদিন একরাত মুখে কিছু দেয় নি ওকে আমি বুঝিয়েছিলাম আর রাজি হয়েছিলাম তার সাথে ফুচকা খাওয়ার জন্য আমায় পরাজিত করার খুনশুটি হাসি অপ্সরা কণ্যার খুশি থেকেও কম নয় সেই প্রথম বলেছিল আমার চেহারা নাকি রাজপুত্রের মতো, আমাকে নিয়ে সে গর্ব করে ছুটি শেষে কলেজের সামনে থেকেই ফুচকা খাওয়ার প্রতিযোগিতা করেছিলাম আমরা দুজন ওর নিজের হাতে আমায় খাইয়ে দেয়া একএকটা ফুচকা গিলতে গিলতে প্রায় তিন প্লেট সাবাড় করে দিই এরপর থেকে সুযোগ পেলেই ফুচকা খাওয়ার আবদারটা কোনভাবেই মিস করতাম না সেদিনের ফুচকার কড়মড় শব্দ এখনও আমার কানে বাজে

বাড়িতে একটু ভালো খাবারের আয়োজন করলে আমাকে ওর কড়া নজরদারিতে থাকতে হয়, যেভাবেই হোক সন্ধ্যার আগে যেন ওর সামনে হাজির হই আমাকে নিয়ে ওর বাড়াবাড়ি মাঝে মধ্যে বেশ শঙ্কায় ফেলে দিতো, ভয়ও পেতাম অফিসে আসার সময় রাস্তায় টিফিন নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতো আমার জন্য আমি নিতে অস্বীকার করলে বিভিন্ন বাহেনা করে যেভাবেই হোক ব্যাগের মধ্যে পুরে দিতো নিজে ডিম না খেয়ে সিদ্ধ করে দিত আমাকে ছিল আমার কাছে স্বপ্নের রানী ওকে ছুলে, স্পর্শ করলে যেন দিনটাই যেত আমার অন্যরকম আনন্দের মধ্য দিয়ে
ভালোবাসার যুগলদের দেখলে মনে হয় ফ্রেমে বাধিয়ে রাখি ভালোবাসার জন্য ঘর ছেড়েছে ওরাও সকাল থেকে বিকেল অব্দি একই যুগল বসে থাকে নির্জন এলাকায় ঘড়ির কাটা বাধ মানতে চায়না, একটু তড়িঘড়ি করেই চলে দেখতে দেখতে দিনটা কিভাবে শেষ হয়ে যায় বুঝা বড় মুশকিল ভালোবাসার সাথে সময়ের দৌড় খুবই বেখাপ্পা লাগে ভালোবাসা মানুষটির কোলে মাথা রেখে তার মুখের দিকে ঘন্টাখানিক চেয়ে থাকার পরও মনে হয় একটা অপূর্ণতা থেকে গেল

আমায় একদিন জিজ্ঞাসা করেছিল ভালোবাসার সঠিক অর্থ কি? আমিও প্রশ্ন করেছিলাম তুমি আমায় কতটুকু ভালোবাসো? বলেছিল, আকাশ থেকে জমিনের দূরত্ব থাকলেও একটা সীমা রেখা আছে আর আমার ভালোবাসার কোন সীমারেখা নেই ঠিক ততোটাই যতটা তুমি আমায় ভালোবাসো অথচ ভালোবাসার জন্য আমি জীবন দিতে পারলেও ভালোবাসা সম্পর্কে সঠিক ব্যাখ্যা দেওয়ার মতো ক্ষমতা আমার নেই তারপরও বলেছিলাম তুমি ভালোবাসার অর্থ বুঝো বলেই আমায় ভালোবাসতে পারো তবে ভালোবাসার বিভিন্ন অর্থ আছেদুটো মনের বিনিময় হলে ভালোবাসা হয়, প্রিয় মানুষকে না দেখার কষ্ট ক্রমেই বাড়তে থাকে ভালোবাসা মানেই অকারনে মন ছটফট করা আর মুখখানা দেখলে নিমেষেই কষ্ট বিলিন হয়ে যায় তবে ভালোবাসার আর এক নাম আছে, তার নাম দুঃখ

আবহাওয়া অধিদপ্তরের খেয়ে দেয়ে কাজ নেই সকাল বেলা থেকেই বারবার সতর্কবাণী দিচ্ছেসারাদেশে দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে আবহাওয়া অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশে প্রায় একই বার্তা শুনতে শুনতে কিছু মানুষ বিরক্ত হয়ে পড়েছে উনার কথা কেউ পরোয়া করে না কেননা বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ অধিকাংশ সময় আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে অবস্থান করে তাই যে বার্তায় আসুক না কেন, তাতে কারোর মাথা ব্যাথা নেই মহাপরিচালকের গবেষণা অনুযায়ী বার্তাটা সত্য হোক আর মিথ্যা হোক সতর্কতা অবলম্বন করা সকলেরই উচিত কেননা ২০০৭ সালের প্রলংকারী ঘুর্ণিঝড় সিডরের আঘাত দেশের মানুষ এখনও ভুলে যায় নি, সেদিনওতো আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে সতর্কবাণী দেওয়া হয়েছিল আজকের আবহাওয়া অধিদপ্তরের বার্তায় বৃষ্টি হওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকেই টাকফাটা রোদ্দুরে বৈরিভাব বিরাজ করছে আমি আবহাওয়া অধিদপ্তরের কথা কিছুটা মানি তাই আজ পার্কে আসতে চায় নি অনিচ্ছা সত্বেও পার্কে আসতে হয়েছে, আজ যে আমার টুনির জন্মদিন আমার সাথে না থাকলেও প্রতি বছরই জন্মদিনটা বিশেষ ঘটনার মধ্যে দিয়ে স্মরণ করি কেননা এই জন্মদিনের সাথে আমার ভালোবাসার সূচনা হয়েছে সেপ্টেম্বরটি আমার জন্য বিশেষ একটি দিন পার্কে এসে ছোট ছোট বাচ্চাদের চকলেট কিংবা কিছু টাকা হাতে ধরিয়ে দিই, তারা যেন টুনির জন্য দোয়া করে
আমি যখন তাদের বাড়ি যেতাম ব্যাগে করে একটা ছোট কেক নিতাম টুনির হাত দিয়ে কাটাবো বলে এছাড়াও একটা স্পেশাল উপহার থাকতো অনেক্ষণ ধরে একে অপরের দিকে চেয়ে থাকতাম তারপর দুজন দুজনার হাত ধরে কেক কাটতাম আমাকে খাইয়ে দিতো আর আমিও কেউ দেখে ফেলার আগেই ব্যাগের মধ্যে লুকিয়ে নিতাম বাসায় এসে খুবই আনন্দের সাথে সবাইকে খেতে দিতাম একটু আধটুকু করে
পার্কে আজ বাচ্চা ছেলেদের আনাগোনার পরিমানটা খুবই কম হাফ প্যান্ট পরা আর কর্দমাযুক্ত গা নিয়ে একটি ছেলে সিগারেটের ফিল্টার ফুঁকছে আবার সেগুলো পকেটেও রাখছে আশপাশের মানুষদের নিয়ে তাদের কোন ভাবনাচিন্তা নেই ওরা বোঝে না সম্মান জিনিসটা কি ওদের কয়েকটা দল আছে, যারা সারাদিন এর ওর কাছে গিয়ে দু টাকা ভিক্ষা চায় সবাই অবহেলা করে, দূর দূর করে তাড়িয়ে দেয় ওদের অথচ সম্মান শব্দটার সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মত মানুষ জগতে খুব কমই আছে এরা যখন সন্তানের জনক জননী হবে তখন কি আদব কায়দা শিখাতে পারবে ওদের সন্তানকে? বলতে কি পারবে সম্মান শব্দটার অর্থ কি? হাটতে শিখতে না শিখতেই মা সন্তানের হাতে বিদ্যা তুলে দেয়ার পরিবর্তে তুলে দেয় ভিক্ষা করার জন্য ভাঙ্গা থালা কাঁটাবন রোডে যাওয়ার পথে প্রায় দেখা মিলত একটি মা তার সন্তানকে পায়ের সাথে রশি বেঁধে ভিক্ষা করারবৃত্তিটা কিভাবে শিখাচ্ছেন ওদের কেউ ভালোবাসতে পারে না বরং সমাজের উঁচুতলার লোকজন করুণা করতে পারে মাত্র আমি হাত নেড়ে ছেলেটিকে ডেকে আমার পাশে বসার জায়গা করে দিই ছোট বেঞ্চ দুজন বসার জন্য তৈরি করা হয়েছে, নিশ্চয়ই ভালোবাসার যুগোলদের জন্য মাথায় হাত বুলিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম চকলেট খাবি? মাথা নাড়িয়ে হাতখানা বাড়িয়ে দেয় বলে সাহেব আমি তোমাকে চিনেছি, অনেকদিন আগে তুমি আমায় টাকা দিয়ে হোটেলে খাইয়েছিলে আমিতো হতোবাক আমার ভালোবাসার বিশেষ দিন উপলক্ষ্যেই ওকে গতবছর খাইয়েছিলাম সেটা আজও মনে রেখেছে শারিরিক গঠনে পরিবর্তন হলেও মানুষের কাছে হাতপাতার স্বভাবটা এখনও যায়নি চকলেট মুখেপুরে আনন্দে আন্দোলিত হয় জিজ্ঞাসা করলাম স্কুলে যাস? না, স্কুলে গেলে রোজগার করবে কে? কেন তোর বাবা মার কি হয়েছে? তারাও ভিক্ষা করে, বলে দিয়েছে পঞ্চাশ টাকার কম নিয়ে বাসায় ফিরলে রাতে খাওয়া বন্ধ ওদের জীবন সম্পর্কে অনুভব করলে চোখে এমনিতেই পানি আসে পঞ্চাশ টাকা এদের কাছে অনেক কিছু, অথচ আমাদের কাড়ি কাড়ি টাকা থাকা সত্বেও চাহিদা আরও বেড়ে যায় এরা মানুষের কাছে দু টাকার জন্য হাত পাতে, আর আমরা হাত পাতি লাখ টাকার জন্য এদের আর আমাদের মধ্যে কোন তফাৎ নেই তারপরও ওদের মধ্যে সুখ আছে যেটা আমাদের মধ্যে থাকে না ইশ্ ওদের মতো জীবন ব্যবস্থা যদি আমার থাকতো তাহলে ভাঙ্গা ঘরে চাঁদের কিরণ বুঝি আমার বন্ধুই হতো সাহেব কিছু ভাবছেন? না না, আজ কত টাকা আয় করেছিস? সাহেব কেউ দিতে চায় না, সব মিলে পনের টাকা বাজারে সবকিছুর দাম চড়া, বাবুদের বেতন সে হারে বাড়েনি, সেটাও বুঝি, কিন্তু আমাদের কথা কেউ বুঝে না কথাগুলো শুনে আমার চোখতো ছানাবড়া, এতটুকু ছেলে বলে কি! চকচকে পঞ্চাশ টাকা বের করে দিতেই খুশিতে ফেটে পড়ে ওর মধ্যে যে আনন্দ খেলা করে ইচ্ছা করলেও তা কিনতে পাওয়া যায় না

পরিবেশটা বেশ থমথমে লাগছে, ঝিরঝির বৃষ্টিও হচ্ছে, ছেলেটি খুশিতে দৌড় দেওয়ার সময় খেয়ালই করেনি আমি কে? আমাকে ঘিরে বেশি খুশি হলে এমনই করতো টুনি এইদিনে তার ঘর জমজমাট করে সাজাতো রুমের লাইটটা বন্ধ রাখতো আমার জন্য ঘরে ঢুকা মাত্রই পাঁচ থেকে সাতটি বেলুনের ফটফট আওয়াজ শুনতে পেতাম, চমকে উঠার সাথে সাথে জরি এনে লাগিয়ে দিতো আমায়, শুধু কি তাই! কয়েকটা বেলুন মাথার উপর রেখে টিপ্পুনি দিয়ে ফাটাতো তারপর নাচানাচি আনন্দ আরও কত কি! আনন্দ করার সময় তার কোন খেয়ালই থাকতো না শুধু খেয়াল থাকতো আমার আসার সময় সম্পর্কে কেউ জানতো না আজ আমাদের ভালবাসার দিন, ইংরেজিতে লাভ ডে সবাই জানতো আজ টুনির জন্মদিন তাই একটু স্পেশাল আয়োজন

আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে আসা বার্তা আজ সত্যিই হলো হঠাৎ বৃষ্টি এসে ভিজিয়ে দেয় আমায় চোখের কোণা বেয়ে গড়িয়ে পড়ে বৃষ্টির পানি এটা কি আসলেই বৃষ্টি? নাকি আমার টুনির জন্য বছরের পর বছর জমিয়ে রাখা কয়েক ফোঁটা চোখের জল চোখের জল সম্পর্কে ঐদিনই ধারনা হয়েছে যেদিন টুনি আমাকে তার সামনে রেখে অঝরে কেঁদেছিল অন্যকারো মুখ থেকে যখন আমি শুনেছিলাম আমার টুনি আমার আর নেই উন্মাদনার ন্যায় পৃথিবীতে বাস করার মতো যোগ্যতা তখনই আমি হারিয়ে ফেলেছি প্রকারন্তে ভালোবাসার অবশিষ্ট হৃদয়ের গহীনে টুনি নামক অক্সিজেনের জোরেই বেঁচে আছি

আমি ওর সাথে দেখা করেছিলাম খাটের এককোণে , আর এককোণে আমি কোন কথা নেই নিজেদের মধ্যে আমরা দুজন পৃথিবীতে বসবাস করছি কি না এবিষয়ে নিজের মধ্যে কৌতুহল হলেও বাস্তবে বোঝার ক্ষমতা আমার ছিল না তবে এতটুকু উপলব্ধি করি এই পরিস্থিতিতে মানুষের নিউরোন দূর্বল হয়ে থাকলে পাগল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনায় বেশি থাকে

আমাকে নানান কথা বলে বুঝিয়ে চলেছে বলেছিল তোমাকে চল্লিশ বছরের সময় দিচ্ছি এরমধ্যে নিজের পায়ে দাঁড়াও তারপর আমি তোমার কাছেই ফিরে আসবো কোনভাবেই মন খারাপ করবে না আমি তোমার তোমারই থাকবো সবসময় মনে করবা আমি আমার দাদুর বাড়ি বেড়াতে যাচ্ছি আমাকে জড়িয়ে ধরে ফুঁফিয়ে ফুঁফিয়ে কেঁদেছিল অল্প দূরত্ব থেকে আমার ভালোবাসার মানুষকে হারিয়ে যেতে দেখেছি দেখেছি নিজের ভাগ্যকে থাপ্পর মেরে ধুলাই লুটিয়ে গড়াগড়ি খাওয়ার দৃশ্য আরও দেখেছি মুখের ভেতর ওড়না পুরে বুকফাঁটা আর্তনাদের চিত্র ওর চোখের পানি আমি সেদিন মুছে দিতে পারিনি, কারন আমি ছিলাম গহীন সাগরে ডুবে থাকা একটি অথর্ব পাথর আমি ছিলাম অসহায়

Related posts

প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে মোহাম্মদ সোহেল এর কতিপয় পরামর্শ

প্রশ্নপত্র ফাঁসের হাত থেকেরেহাই পেতে আমার চিন্তা বা ভাবনা উপস্থাপনা করছি।১.একটি বাক্সে প্রশ্নের সিলগালা খাম টি রাখা থাকবে।২.বাক্সের মুখ আধুনিক…

Read more

বিরহ যন্ত্রণা ।। মোঃ লোকমান হোসেন শিশির ।।

বিরহ যন্ত্রণায় ক্ষণিকের আনন্দ ঘনভূত আমার জীবনক্লান্ত-শিক্ত অশ্রু আমার খোঁজে কার আশ্রয়-ভূবন ঘুরিয়া নাহি পেলাম নাহি পেলাম সুখ,আহা বারবার টানে…

Read more

বর্তমান আমি ।। মেহেদি হাসান ।।

অতীত আমি গেছি ভুলিমনের সুখে নিরাই ইরি।মাটিতে হাঁটু ফেলিমাথাটা নিচু করিমাটিটা খামচি ধরিআগাছাগুলো ফেলছি তুলি।ক্লান্তি তখন আসে ঘিরিহারানো দিনের গানগাইতে…

Read more

Leave the first comment