।। আশিকুল কায়েস ।।

ইয়ান আর রিমির সাংসারিক জীবন খুব বেশি দিনের নয়। ইয়ান ছোটখাটো বেতনের একটা সরকারি জব করে। ছোট সংসার ওদের। টানাটানি করেই চলে, তারপরও খুব ভালোই আছে। তবে স্বামী আর স্ত্রীর মাঝে বোঝাপড়া একদম পাক্কা। ফলে সবকিছুতেই একটা সুখকর ঘ্রাণ পাওয়া যায়। একটু ভালো থাকা কিংবা সুখ জিনিসটার মাঝে ওদের দুজনের একটা তৃপ্তিমাখা ব্যাপার আছে। অল্পতে তুষ্ট হলেও নারীর মন যে আরও একটু সামান্য সবকিছুতেই চাই। তাই স্ত্রীর কথায় কোন কারণবশত আর একটু বেশি আরাম খুঁজতে নিজের আবাস ছেড়ে হঠাৎই নতুন বাড়ি ভাড়া করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। দুইজনের সংসার, বাজেট খুব বেশি বড় না। এই বাজারে ২০০০টাকা কিংবা এর চেয়ে কম খরচ হলে মন্দ হবে না। অফিস ছুটির দিন, বেশ আশা নিয়েই বাড়ি খোঁজার কাজে বের হয় ওরা। অফিস থেকে অদূরবর্তী, তাও যে খুব কাছে ঠিক বলা যাবে না। এমন একটা স্থানে বাসা ভাড়ার সন্ধান মেলে। ভাবছে বাসাওয়ালার সাথে কথা বলবে। কলিংবেল কয়েকবার চাপা হলো। মধ্যবয়সী থেকেও কম বয়সী এক ভদ্রলোক গেট থেকে বেরিয়ে এলেন। সুঠাম দেহ, চেহারাটা নাদুসনুদুস। লোকটার আচারণটা ছিল একেবারেই অদ্ভুত টাইপের। চেহারার সাথে অনেকটাই বেমানান। এই ধরুন মোবাইলটা কানে নিয়ে গেটের ওপারে দাঁড়িয়ে আছে তো আছেই, অথচ গেট খোলার নাম নেই। সমানে কলিং বেল টিপে চলেছে। হঠাৎ একটা বিরক্তি নিয়ে ওপার থেকে লোকটা বলেই বসলো- কি হচ্ছে কি? ক্লক্সিবেল গেটটা খুলে ধমকসুরে বললেন- একটু ধৈর্য্য ধরা যায়না। ইয়ান স্ত্রীর দিকে বিমূঢ় হয়ে তাকায়। কি করবে ভেবে পাচ্ছে না। মনে হচ্ছে লোকটা হাজারো ব্যস্ত, তাদের সাথে কথা বলার প্রয়োজনটুকু মনে করছে না। লোকটা তাদের মুখের দিকে তাকিয়ে নরম সুরে বললেন- ও আপনারা। এমন একটা ভাব করলেন যেন কতদিনের চেনা। এটা কি অদ্ভূত আচারণ নয়? রিমি ইয়ানের কানে ফিসফিসিয়ে বলল- বাড়ির মালিক হয়েছে বলে কি আমাদের চার পয়সা দাম নেই? নেহাত আমরা ভাড়াটিয়া তাই। নইলে ত্রিসীমানায় আসতাম না। লোকটা এখনও ফোনে কারো সাথে কথা বলা নিয়ে ব্যস্ত। ধুর বাবা ভালো লাগেনা বলে নিজেকে সামলে নেয়। ইয়ান ভাবছে এরই মধ্যে কথাগুলো সেরে ফেলবে। বাড়িওয়ালার কাছে একপা দুা পা করে এগিয়ে যেতেই- কানে ভেসে এলো, বাড়িওয়ালা কাউকে বলছেন- ভাই আপনারা বাড়িটাতে উঠে পড়তে পারেন কোন সমস্যা নেই। কথাটা শুনে ইয়ানের মন খারাপ হয়ে যায়। ওপার থেকে পাকা কথা নেয়ার আগে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে গিয়ে একটু থামানোর চেষ্টা করলো ইয়ান। অনুরোধর সুরে বলল, ভাই আমিতো আপনাদের এখানেই চাকরি করি, আমার আর স্ত্রী দুজনের বাসা পাওয়াটা খুবই দরকার। একথা সেকথা বলে একটু কনভেন্স করার চেষ্টা। মনে হচ্ছে না- কাজ হবে। ইয়ান একটু সিরিয়স হয়ে বলল, দেখুন আপনি আমাকে বাসাভাড়া না দিতেই পারেন। একটি নীতিকথা বলি, খাঁচার একটা পাখি বনের আট দশটা পাখির চেয়ে অধিক মূল্যবান। এক মুরব্বির মুখে কথাটা শুনেছিলাম, বেশ ভালোও লেগেছিল। তাই এই উক্তিটি যত্ন করে তুলে রেখেছি, ভাবিনি আজ এখানে কাজে লাগবে। আপনি কাকে বাসাভাড়া দেবেন জানিনা। সে নিশ্চয়ই আপনার অপরিচিত কেউ হবে। আর আমি আপনার পরিচিত না হয়েও আবার পরিচিত একজন। আমি আপনার এলাকায় চাকরি করি। সেদিক দিয়ে আমি আপনার বেশ কাছের। কথাগুলো একেবারে অযৌক্তিক নয়। শুধু বাসা ভাড়া পাওয়ার জন্য বিশাল একটা লেকচার শুনিয়ে দিলেন। অথচ বাসাভাড়া নিলে সামর্থ্যের মধ্যে থাকবে কিনা এসব কথা একদমই মনে ছিলনা। যেভাবেই হোক বাসাভাড়া নিতে হবে, এমনই একটা কায়দা। মলম বিক্রি করে এককথায় পটানোর ধান্দা। একবারের জন্যও মনে হয়নি লোকটা যে অদ্ভূত আচারণ করছে তার থেকেও ভাড়াটিয়ার অন্যরকম আচর হয়ে গেল কিনা। শেষ পর্যন্ত জোরাজুরির কারণে লোকটা বাড়ি ভাড়া দিতে রাজি হয়েই গেলেন। ইয়ানতো হতবাক। ভাবছে একথা সেকথা বলেতো রাজি করলাম, কিন্তু বাড়ির কোন পরিবেশই দেখা হয়নি। যেখানে দাড়িয়ে আছে সেখানকার চাকচিক্য দেখে মনে মনে ভাবছে আমার সারা মাসের কঠিন পরিশ্রম দিয়ে হয়তো ভাড়ার খরচ মেটাতে হবে। ইশ কেন যে ভাবলাম না, কেন যে কথাবার্তা বলে নেয়নি, এখন বাড়িওয়ালার সাথে চাইলেও বাসা ভাড়া নিয়ে তর্ক ভাইস করা যাচ্ছে না । স্ত্রীর কথায় কেন যে ধুম করে এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম। এখন এত্তএত্ত খরচ জোগাব কোথা থেকে? চিন্তায় পড়ে যায় ইয়ান। বাড়িওয়ালা ঘরে চলে যাওয়ার সময় বললেন এখন থেকে আপনি আমার ভাড়াটিয়া, এমুহুর্ত থেকে আপনার পূর্বের ঘরে ঢোকার পারমিশনটুকু নেই। বাতিল করে দিলাম। কথাগুলো শুনে আরও একটু অবাকই হলো ইয়ান। তার কথা শুনে মনে হচ্ছে, এর আগেও এই বাড়ীর সাথে তার গভীর একটা যোগাযোগ ছিল। আজ থেকে সেটা বাতিল হয়ে গেল। মনে মনে হাসল সে। লোকটার যত্তসব অদ্ভূত অদ্ভূত কথা। দাঁড়িয়ে রইলো ওরা। আর বাড়িওয়ালা একটা চাবি নিয়ে বললো চলেন আপনাদের বাড়িটা দেখিয়ে আনি। মনের মধ্যে একটু আশার সঞ্চার হয়। ভেবেছিল এই বাড়ীতে থাকতে হবে। সে অনুযায়ী সামর্থ্যের মধ্যে বাড়ি ভাড়া সম্ভব নয়। অন্যকোন বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছে, তারমানে সামর্থ্যের মধ্যে বাড়ি ভাড়া পাওয়া যাবে বলে নিজে নিজেই শান্তনা নেয়। বাড়িওয়ালার বাড়ি থেকে অনেক দূরে ভাড়া বাড়ির অবস্থান। অনেক বড় এরিয়া। দেখে বেশ পছন্দ। চমকে ওঠাটাই স্বাভাবিক। বাড়িওয়ালার নিজস্ব বাড়ি থেকেও এটি কম যায়না। বেশ খোলামেলা পরিবেশ, তবে জায়গাটাও লোকটার মতই অদ্ভূত, শরীরে মাঝেমধ্যেই ঝমঝম করে ওঠে। ভাড়া দেয়ার ক্ষেত্রেও অদ্ভূতসব শর্ত, নাকি ষড়যন্ত্র বুঝতে পারাটা কঠিন। পরিপাটি একটা রাজকীয় বাড়ি। পুকুরের পাশে জমিদারি মহল। এখানে মনে হচ্ছে অন্যকেউ থাকে না। কত বছর যাবৎ এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে তারও কারণ খুঁজতে গেল না ইয়ান। এটা শুধু বাড়ি বললে ভুল হবে, বিশাল জায়গার উপর নির্মিত এক রাজকীয় প্রাসাদ। এখানে সেখানে বিল্ডিং এর অস্থান। প্রতিটা রুম শুধু মাল সামানা দিয়ে ভরা। আর অগৌসাল। বাড়িওয়ালা বলেছেন এখানে সবকিছু আছে শুধু সাজিয়ে গুছিয়ে নিতে হবে। এই রূপকথার প্রাসাদটা ভাড়া নিতে নিজের ইচ্ছেশক্তি কাজে লাগিয়েছিল বলে বেশ আফসোস হচ্ছে ইয়ানের। বাসা ভাড়া নেয়ার আগে ভালো মন্দ বিচার করে এগুনো উচিত ছিল। ভাবছে আর ঘামছে। ইয়ানের চিন্তা শুধু একটাই- তাকে আর তার বউকে বিক্রি করলেও একদিনের ভাড়া যোগাড় হবেনা। আর একমাসতো দূরের কথা। বাসাওয়ালা ধুম করেতো বলেই দিলো সবকিছু ব্যববহার করতে পারবেন। কিন্তু ভাড়া দিতে হবে কত সেকথা বলছে না। বাড়িওয়ালার মুখের দিকে তাকিয়ে সাহস করে জিজ্ঞেস করল ভাড়া কত ভাই? বলল দুই হাজার টাকা। মনে মনে কৌতুহল লাগছে আর ভাবছে আমি অদ্ভুত রহস্যময় কোথাও এসে পড়লাম কিনা? দুই লক্ষ বলতে গিয়ে মুখ ফোসকে হাজার বেরিয়ে গেছে। যা ভুল বলেছে বলুক। ইয়ান তার স্ত্রীর সাথে কিছু একটা বীড়বীড় করে হ্যাঁ হ্যাঁ রাজি বলেই অট্টহাসিতে সম্মতি জানিয়ে দেয়। প্রাসাদ বাড়িতে থাকতে হবে, আহ কি মজা, তাও আবার পানির দামে ভাড়া! কি আশ্চর্য! আরও কি আশ্চর্যের মুখে পড়তে হবে কে জানে? স্ত্রীর জোরে রাজিতো হয়ে গেল। ভাড়া নেয়ার ব্যাপারে যত্তসব অদ্ভূত শর্ততে ভরা। শুধু চিন্তা আজ থেকেই আরামের যাত্রা শুরু। বাড়িওয়ালা শর্ত দিলেন বেশি ঝামেলা করা যাবেনা। রাতে বেশি শব্দও করা যাবে না। শর্তের মাঝে একটু অদ্ভুত আবদার করে বসলো ইয়ান। আমার একটু নাক ডাকার স্বভাব আছে সেটুকু করা যাবে? বললো তাও না। ইয়ান ভাবলো নাক ডাকলে কেউ কি দেখতে আসবে নাকি? আগেতো বাসায় উঠি। বাড়ীওয়ালা বললো এবার আপনাদের থাকার ঘর দেখিয়ে আনি চলুন। এবার বুঝি মাথায় আকাশ থেকে পড়লো। প্রাসাদ দিচ্ছে ব্যবহারের জন্য আর রাতে থাকতে হবে বাঁশের বেড়া দেয়া একটা চালা ঘরে। তাও আবার বিরাট এক তেতুলগাছের নিচে। না না এটাও কি সম্ভব? লোকটার নিশ্চয়ই মাথা খারাপ হয়েছে। যত অদ্ভূত সব কান্ড কারখানা। কি আর করা- দুই হাজার টাকার ভাড়ায় এর চেয়ে কিবা আশা করা যায়? দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বিষয়টি মেনে নিল ইয়ান। আজই তারা এবাসায় উঠবে। এতবড় আবাস ভবনের আশেপাশে পাড়াপ্রতিবেশীর অবস্থানের লেশমাত্র নেই। তবে তারা যেখানে আছে সেটা কি কোন রহস্যময় ভবিষ্যতের হাতছানি দিতে যাচ্ছে? কারোরই জানা নেই। হঠাৎ অনুভবে আসে চালার পাশেই জীর্ণ শীর্ণ ভাঙ্গা একটি ঘর। সেই ঘরে একজন মাত্র বুড়িমা বাস করেন। বুড়িমার হাবভাব দেখে মনে হয় কিছু একটা বলতে চান ওদের। চেষ্টা করেও কথা বলার নাগালটুকু পাচ্ছে না। ইয়ান ও তার স্ত্রী এবিষয়ে কোন গুরুত্বও দিচ্ছে না। কারণ ভাড়াটিয়ার অদ্ভূত শর্তের মধ্যে- কাউকে এই ত্রীসীমানায় আনাতো দূর থাক, কথা পর্যন্ত বলা যাবেনা। এজন্য ইচ্ছে থাকলেও তার কাছে গিয়ে যে গল্পস্বল্প করবে সে সুযোগটুকুও নেই। প্রতিবেশীর সাথে সীমানা প্রাচীর না থাকলেও, বুঝতে পারা যায় বুড়িমা জমিদার মহলের সীমার মধ্যে বাস করেন না। দুই সীমানার মধ্যে অদ্ভূত একটা বৈশিষ্ট্য আছে। যতই চিৎকার চেঁচামেচি করুক না কেন, এপারের কথা ওপারে কিংবা ওপারের কথা এপারে কেউ শুনতে পায়না।
অনেক খাটাখাটনির পর রাতে চালার মধ্যে এক চৌকিতে শুয়ে মাথার নিচে হাত রেখে ভাবছে, ভুলই কি করলাম। এ রহস্যের শেষ কোথায়? ভাবছে আর তেতুল গাছের মগডালের দিকে চোখ ইয়ানের। ইয়ান আগাগোড়ায় একটু সাহসী ছেলে। তখন বেশ রাত, চোখ দুটো ঘুমে লেগে আসছে। এমন সময় তেঁতুল গাছের মগঢালটা নড়াচড়া করছে। পাখি হবে হয়তো। আরেকটু লক্ষ করে দেখে দুটো জন্তু নিজেদের মধ্যে হামড়ি- কামড়ি করছে। ইয়ান বেশ সতর্ক অবস্থানে থেকে ওদের দিকে লক্ষ্য রাখছে। জন্তু দুটোকে সুবিধাজনক মনে হচ্ছে না। সুযোগ পেলেই মনে হচ্ছে খপ করে গিলে ফেলবে। রিমিতো আনন্দে আটখান। এমন একটা জায়গা তার কপালে কিভাবে সইবে, তাই জল্পনা কল্পনা করতে ব্যস্ত। এদিকে কিছু একটা অঘটন ঘটতে পারে এব্যাপারে কোন চিন্তা ভাবনা নেই। ইয়ানের শুধু তেতুল গাছের দিকে চোখ। জন্তু দুটোকে কখনও চোখের আড়াল করার সুযোগ দিচ্ছে না। ইয়ান মনে মনে প্রস্তুতি নিচ্ছে কখন যেন দৌড়ানি দিতে হয়। এজায়গাটা যে খুববেশি সুবিধাজনক নয়, এতক্ষণে তা মাথার মধ্যে এসে গেছে। জন্তু দুটোকে স্পষ্ট করে দেখা গেল। কখও ভিন্নরূপ ধারন করলেও বেশিরভাগ গেছো বাঘেই রুপ বদল করছে। বাড়িওয়ালার প্রতি রাগ হচ্ছে। কেনইবা বাড়ীভাড়া নিল, এবিষয়ে যত্তসব ভৎসনা। এমনসময় কোথা থেকে অদ্ভূতভাবে মোরগের ডাক কানে ভেসে আসে ইয়ানের। সারা শরীর কাটা দিয়ে উঠছে। ভয় এসে ভর করেছে সবার অলক্ষ্যে। সকাল হয়নি, মধ্যরাতেতো এডাক শোনার কথা না। রিমি হঠাৎ বললো, মোরগের ডাক শুনে যদি এমন হতো, বিপদের আলামত নির্দেশ করছে, তাহলে মনে হয় মানুষসকল একটু সাবধান হতে পারতো। কথাটা শুনে ইয়ানের সাহস ফিরে পায়। স্ত্রীর হাতে আলতোভাবে হাত রাখে ইয়ান। রিমি জিজ্ঞাসা করলো, কি হয়েছে তোমার? এতো প্রেশান কেন? ইয়ান স্ত্রীর হাতখান জোরে চেপে ধরে বলে কেন যে ভাড়া নিতে গেলাম। আমাদের আসল বাড়ীটাই চিন্তে পারিনি। বাড়ীওয়ালা এখন মনে হচ্ছে আমার কোন আপনজন, কথাটা বলে দু”চোখের পানি ছেড়ে দেয়। আর বলে আমার হাউমাউ করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে। রিমি চোখের পানি মুছাতে গেলে ওর হাত ধরে বলে চলো আমরা পালাই। বলেই দৌড়। পেছন পেছন বাঘ দুটো। ধরে ফেলবে ফেলবে অবস্থা। কোনমতে বুড়িমার ঘরে গিয়ে আশ্রয় নেয় ওরা। বুড়িমা মনে হলো ইয়ানদের উপর খুব রেগে আছেন। তারা কেন ভুল করলো, কেন ভাড়া নিতে গেলো বলে একগাল বকা শোনালেন। এমুহুর্তে আসল বাড়িতে ফিরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই বলে জানালেন। এমনসময় বাঘ দুটো খুবই বিরক্ত করছে। ভাঙ্গা চেয়ারটা দিয়ে বুড়িমা ঘা মেরে বুঝি একটু শান্ত করতে পেরেছে বাঘ দুটোকে।


