আঁধার সন্ধ্যা । রাস্তায় তেমন একটা আলো নেই ।
হামিদ রাস্তার দিকে তাকিয়ে হাঁটছে । কানে গান শোনার যন্ত্র । হামিদের মনটা খারাপ । আজ লামিসার সাথে তাঁর রিলেশন ব্রেকআপ হয়ে গেছে ।
তাই তাঁর মন খারাপ । সে ভাবতে পারছে একটা সম্পর্ক ভাঙ্গা কারো কারো জন্য কত সহজ । তাঁর এখনো লামিসার কথা টা মাথায় ঘুরছে ।
কি সহজেই না সে বলল “আমি আর এই রিলেশন কনটিনিউ করতে পারবো না । আমি এইরিলেশন ব্রেকআপ করতে চাই ।”
সে হামিদকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই চলে গেল ।
হামিদ ভাবছে আর হাঁটছে ।
হঠাৎ সে একটা কণ্ঠস্বর শুনতে পেল । মেয়েলি কোমল নিচু কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠস্বর ।
হামিদ মুখ তুলে তাকালো, আঁধারে কিছু ঠিক মত বোঝা যাচ্ছে না । মুখটা নেকাবে দিয়ে আচ্ছাদিত ।
তবু, যতটুকু বোজা যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে মেয়েটি রূপবতী । নেকাবের মাঝেও তাঁর রূপের ঝলক বোঝা যাচ্ছে । তাঁর রূপ যেন নেকাবের মাঝে আঁকিবুঁকি দিচ্ছে ।
হামিদ একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে , কি বলবে বুঝতে পারছে না ।
মেয়েটি আগের থেকেও নিচুস্বরে লজ্জা এবং বিনীত ভাবে বলল ” যাবেন ।”
হামিদ আড়ষ্টকণ্ঠে বলল “কোথায় যাবো ?”
” যেখানে নিয়ে যেতে চান, সেখানে যাবো ।”
হামিদ অন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে তাকালো । সে মেয়েটিকে মাপার চেষ্টা করছে । কি ধরনের মেয়ে বোঝার চেষ্টা করছে ।
“আপনি চাইলে আপনার বাসায় যেতে পারি” – মেয়েটি রাস্তার একপাশে সরে গেল । রাস্তায় হাতেগোনা লোকজনের আনাগোনা ।
হামিদও সরে এলো; মেয়েটির সাথে ।
মেয়েটি কাছাকাছি গেশে বলল, “বাসায় সমস্যা হলে আমার পরিচিত জায়গা আছে যাবেন ?”
মেয়েটি কাছাকাছি গেশে বলল, “বাসায় সমস্যা হলে আমার পরিচিত জায়গা আছে যাবেন ?”
হামিদ কিছুক্ষণ একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো , কি বলবে ভাবছে । কথাগুলো গুছিয়ে নিচ্ছে।
“দেখ আমার মন খুব খারাপ । আর আমি ঐ ধরনের ছেলে না,তুমি যে ধরনের ভাবছো ।”
“বারে! আমার মন বুঝি খুব ভালো আছে । আর, আমি বুঝি সে ধরনের মেয়ে !”- মেয়েটা প্রথম বারের মত একবারে প্রফেসনালের মত কথা বলল ।
“তুমি এক কাজ কর, টাকা গুলো রাখ । কথা বলার জন্য ধন্যবাদ । আমার কথা বলার জন্য কাউকে খুব দরকার ,কথা বলতে পারলে একটু মনটা হালকা হত ।”
“বারে আমি বুঝি কথা বলতে জানিনা ;আপনি আমাকে এত বড় কথা বলতে পারলেন”-মেয়েটা মুখ উল্টিয়ে অভিমানী সুরে বলল ।
হামিদের কেন কথা বাড়াতে ইচ্ছা করছে না । সে চাইলে মেয়েটাকে অতিক্রম করে চলে যেতে পারে । কিন্তু, তাঁর কিছুই করতে ইচ্ছা করছে না ।
এক অদ্ভুত দ্বিধা তাঁর মধ্যে কাজ করছে ।
“সে জানতে চাইলো; কোথায় যেতে হবে”
“এই তো সামনে”
হামিদ বুঝতে পারছে সে যা করছে তা মোটেও ঠিক হচ্ছে না । তবু সে তাঁর মনের বিপরীতে গেল না । দেখা যাক কি হয়, হামিদ সব ভাবনা ছেড়ে দিয়ে হালকা হতে চাইছে; তাঁর কিছু ভালো লাগছে না; কিছু ভাবতেও ভালো লাগছে না ।
বাকি কাজটুকু মেয়েটা করলো ।
সে একটা রিক্সাকে ডাকলো, কিন্তু কোথায় যাবে ? ভাড়া কত ? কিছুই বলল না ।
হামিদ বুঝতে পারলো , এই রিক্সাওয়ালা তাঁদের পরিচিত । হঠাৎ তার মনে হল আচ্ছা এরা কি ছিনতাইকারী ? এরা কি আমার সব কিছু কেড়ে নিবে ?
এই ধরনের পরিস্থিতিতে হামিদ আর কোনদিন পড়েনি ।
এই ধরনের মেয়ের সাথে আগে কোনদিন দেখা হয়নি । হামিদ ভাবছে কি করবে ?
মেয়েটা বলল, আসুন ।
হামিদ দাড়িয়েই রইলো ।
এবার মেয়েটিরিক্সায় উঠে হাত বাড়িয়ে বলল “আসুন ।”
হামিদ হাত না ধরেইরিক্সায় উঠতে গেল ।
মেয়েটি কঠিন গলায় বলল, “কি হলো হাত ধরতে কি লজ্জা লাগছে নাকি ? হাত ধরে উঠুন ।
হামিদ হাত ধরেরিক্সায় উঠলো ।
রিক্সায় উঠার পর থেকে তাঁর অস্থির লাগতে শুরু করলো । বার বার নেমে যেতে ইচ্ছা হল । এটা অন্যায়, এটা ঠিক হচ্ছে না । ভয় ভয় করছে । না জানি কি হয় ?
তবু, সে বসে রইলো ।
মেয়েটা বলল, কি হল আপনি কি ভয় পাচ্ছেন ?
না , বলে হামিদ মাথা নিচু করে বসে রইলো ।
আপনি মানুষটা কিন্তু ভালো ।
কিছু বলবে না ভেবেও কৌতূহলী মনে আড়ষ্ট কণ্ঠে জানতে চাইলো ; কি ভাবে বুঝলেন ?
এর উত্তর পরে দিব ।
ও আচ্ছা ।
হামিদ আবার চুপ করে গেল ।
কিছুক্ষণ পর রিক্সা একটা গলির সামনে থামল ।
রিক্সা থেকে নেমে সে বলল, নামেন ।
হামিদ সঙ্কোচ নিয়ে নামলো ।
মেয়েটি দ্রুত হাঁটছে । হামিদ পিছন থেকে ডাকলো “একটু দাঁড়ান ।”
মেয়েটি দাঁড়ালো, হামিদ তড়িঘড়ি করে পকেট থেকে কিছু টাকা বের করে বলল “এই টাকা গুলো আপনি রাখেন আমি চলে যাই ।”
“টাকা আপনার কাছে রেখে দিন । এখান থেকে ইচ্ছা করলেই আপনি যেতে পারবেন না । রাস্তা চিনবেন না ।”
“আমি পারবো । রিক্সা নিয়ে চলে যাবো ।”
“বললাম তো, আপনি পারবেন না । যতটা সহজ আপনি ভাবছেন ততটা সহজ না । ভয় পাবেন না‘ ভয় পাবার কিছু নেই ।”
এই বলে মেয়েটি দ্রুত হাঁটতে শুরু করলো ।
হামিদ ও মেয়েটির পিছু পিছু গেল ।
অনেকক্ষণ হাঁটা আর অনেক গলি পার হবার পর তারা যে বাড়িটার সামনে আসলো সেটা পুরো অন্ধকার । হাতড়ে হাতড়ে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে হল । চাবি ঘুড়িয়ে দরজা খোলার একটা খুট শব্দ হল । মেয়েটা আলো দিল । একবারে রুগ্ন একটা বাতি,আলো সম্পূর্ণ ঘরে ছড়াতে পারে নি ।
হামিদ পুরো রুমটাকে একপলক দেখার চেষ্টা করলো ।
দেয়ালের রং স্থানে স্থানে খাবলা খাবলা উঠে গেছে ।, দেখে মনে হচ্ছে কেউ খামচি দিয়ে এরকম করেছে । পুরো ঘরে আসবাব বলতে একটা খাট আর একটা পানি খাবার জগ ।
মেয়েটা বলল, আপনি খাটে বসুন । আমি আসছি ।
সে আঁটসাঁট হয়ে খাটে বসলো ।
একটু পর মেয়েটা ফিরলে, সে দেখল- মেয়েটা নেকাব খুলে এসেছে । হামিদ একবার তাকিয়ে মুখ ফিরিয়ে নিল ।
তার ধারনাটাই ঠিক ছিল, মেয়েটা আসলেই রূপবতী ।
নিজের ধারনা সঠিক হওয়ায় হামিদের ভালো লাগলো । একটু সহজ হল ।
মেয়েটা বিছানায় এসে হাঁটু ভাঁজ করে বসলো ।
“তোমার নাম কি ?” হামিদ অন্যদিকে তাকিয়ে জানতে চাইল ।
মেয়েটি একটু মুচকি হেসে বলল, “আমার নাম নুসরাত ।”
“এটা কি তোমার সত্যি নাম ?”
“কেন ?বিশ্বাস হচ্ছে না ।”
“না,তেমনটা না । কেন জানি মনে হচ্ছে, এটা তোমার নাম না ।”
“হুম । এটা আসলেই আমার আসল নাম না ।”
“তাহলে, তোমার আসল নাম কি ?”
“আগে বলুন আমি কি দেখতে কুৎসিত ?”
“না তা হবে কেন ?”
“তাহলে, আমার দিকে ঘুরে বসুন । তাহলেই আমার সত্যি নামটা বলবো ।”
হামিদ ঘুরে বসলো । মেয়েটা একটা মিষ্টি হাসি দিল ।
“এই তো গুড বয় ,আমার নাম আসলে রাইসা ।”
“তোমার নামটা তো সুন্দর । কে রেখেছে ?”
“কে রেখেছে?জানিনা ।“
কিছুক্ষণ নীরবতায় কাটলো ।
রাইসা নীরবতা ভেঙ্গে বলল,”আমি কি সব খুলবো ?”
হামিদ প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে মোবাইল বের করে , একটা ছবির দিকে তাকিয়ে রইলো ।
রাইসা মুখ বাড়িয়ে মোবাইলের ছবির দিয়ে তাকালো । কিছু মুহূর্ত পরে বাজপাখির শিকারের মত চু মেরে মোবাইলটা কেড়ে নিল ।
“তো ,এটা হচ্ছে সাহেবের গার্লফ্রেন্ড ?”
হামিদ কোন উত্তর করলো না ।
“তো,এই মেয়েই তোমাকে ছেড়ে চলে গেছে ?”
“তো,এই মেয়েই তোমাকে ছেড়ে চলে গেছে ?”
“হুম ।”
“মেয়েটাকে কিন্তু আমার হিংসা হচ্ছে ।”
হামিদ আড়দৃষ্টিতে তাকালো ।
“মেয়েটা আমার থেকে বেশি সুন্দর । আমার থেকে বেশি সুন্দর কোন মেয়েকে আমি সহ্য করতে পারি না ।”
রাইসা মুখে বাঁকা হাসি ।
“দাঁড়ান এখনি মেয়েটার খুঁত বের করছি ।”
একটু পর
“নাক বোচা ,নাক বোচা ।”পেয়েছি পেয়েছি বলে লাফিয়ে উঠলো রাইসা ।
“কিসের নাক বোচা-দেখি আমি ।”
হঠাৎ রাইসা হেসে উঠলো ,সব বুঝতে পেরে হামিদো হেসে উঠলো ।অনেক হাসাহাসির পর ।
রাইসা তার মোবাইল বের করলো, মোবাইলের স্কিনে দেখল একটা ছেলের ছবি ।
হামিদ এবার মজা করে বলল,”তবে এই হল আপনার বয়ফ্রেন্ড ?”
“ছিল ।”
“ও তোমার জনও তোমাকে ছেড়ে চলে গেছে ?”
“না,বিক্রি করে দিয়েছে । সে আমাকে বিক্রি করে দিয়েছে ।”
এত কঠিন আর ভয়ঙ্কর কথা এত অবলীলায় কেউ বলতে পারে । হামিদ যেন নিজের কান কে বিশ্বাস করতে পারছিল না ।
সে তোতলাতে বলল, “এই কুলাঙ্গারের ছবি তুমি তোমার মোবাইলে রেখে দিয়েছ ?”
“কি করবো বল – আমি পছন্দের মানুষটি হয়তো ভুল ছিল ,কিন্তু আমার ভালোবাসা সেটা তো ভুল ছিল না । পছন্দের মানুষটাকে ঘৃণা করতে পারি, কিন্তু নিজের ভালবাসাকে কিভাবে ভুলে যাবো ।” একটা নীরব দীর্ঘশ্বাস বুঝা গেল ।
হামিদ অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইলো বুঝবার চেষ্টা এরা কেমন সৃষ্টি । কিছু বুজতে পারলো এমনটা মনে হল না ।
এমন করেই সময় গড়িয়ে গেল । হামিদের মন খারাপ থাকলেই সে রাইসার কাছে ছুটে আসতো । একটু ভালো সময় কাটানোর জন্য ।
সময়ের সাথে সাথে মানুষের রুচি এবং ভালোলাগার পরিবর্তন ঘটে ।এক সময় হামিদের রাইসাকে ভালো লাগতে শুরু করে ।এখন আর আগের মানুষটার কথা মনে পড়ে না ।
হামিদ নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে । নতুন স্বপ্নের সাথে কিছু প্রশ্ন ভিড় করে । কৌতূহলী মনকে দমিয়ে রাখতে না পেরে সে মার্জিত ভাবে প্রশ্নটা করে বসে ।
“আচ্ছা তোমার খদ্দর মোট কতজন?”
এই কথা শুনে রাইসার মুখে মুচকি হাসি দেখা গেল । সে বাঁকা হাসি হেসেই বলল
“ত্রিশ জন ।”
রাইসার মুখে হাসি লেগে থাকলেও, হামিদকে একটু চিন্তিত দেখা গেল ।
এরপর কেটে গেল অনেকটা সময় । হামিদও রাইসাকে বিয়ে করে ফেলল । তাদের সুখের সংসার হল ।
হঠাৎ একদিন রাইসা হামিদকে জিজ্ঞেস করলো।
“আচ্ছা আমার “আচ্ছা আমার অতীত কি কখনো তোমাকে প্রশ্নের সম্মুখীন করে না ।”
“না, করে না ।আমি অন্যদের মত নই আমি যা আপন করি তা মন থেকে করি এবং চিন্তা ভাবনা করেই করি ।আমি বিশ্বাস করি
যতদিন তুমি আমার বর্তমান আছো ; ততদিন তোমার কোন অতীত নেই।
“না, করে না ।আমি অন্যদের মত নই আমি যা আপন করি তা মন থেকে করি এবং চিন্তা ভাবনা করেই করি ।আমি বিশ্বাস করি
যতদিন তুমি আমার বর্তমান আছো ; ততদিন তোমার কোন অতীত নেই।
“ধন্যবাদ, আমার উপর বিশ্বাস করার জন্য। আচ্ছা, তুমি কি অলৌকিক ঘটনা বা মিরাকেলে বিশ্বাস কর ।”
“হুম ।তোমাকে যেভাবে পেয়েছি সেটাও তো মিরাকেল ছিল ।”
“শুনতে মিরাকেল মত সত্যি, আমার সাথে কারো কোন সম্পর্ক হয়নি । আমার যত খদ্দের ছিল সবাই ছিল যুবক, তাই তারা দ্বিধায় ছিল কাজটা করবে কি করবে না । তাঁদের বেশিভাগই কথাবার্তা বলে টাকা দিয়ে চলে যেত । বেশি হলে একটু গায়ে হাত দিত । কেউ কেউ বাড়াবাড়ি করার চেষ্টা করলে একটু ভয় দেখাতাম । তাতেই কাজ হত ।
হামিদের মনে একটা প্রশান্তির বাতাস বইতে লাগলো
“আর, এই যে মাথা মোটামাথার সাহেব আমার খদ্দের কখনো ত্রিশ জন ছিল না । আমি তোমাকে একটু পরীক্ষা করছিলাম । তুমি কি কর । তোমার ভাবান্তরটা কি হয় তাই দেখার চেষ্টা করছিলাম । আমার এই কথা শুনে তুমি কি পালিয়ে যাও, নাকি আবার ফিরে আসো । আমার বিশ্বাস ছিল তুমি ফিরে আসবে, এটা আমার বিশ্বাসেরও পরীক্ষা ছিল ।”
“ও আচ্ছা, তাই নাকি ! আমাকে পরীক্ষা করার প্রয়োজন হল কেন তোমার ? আমাকে তো তখন তুমি চিনতে না ?”
“তোমাকে প্রথম দেখার পর আমি বুঝতে পারলাম তুমি খুব ভালো একটা ছেলে । আর তুমি প্রায় আমার সাথে দেখা করতে আসতে তখন বুঝলাম আমাকে তোমার ভালো লাগে ।তাই আমিও চাইছিলাম তুমি আমার আর কাছে আসো ।”
হামিদ বিস্মিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে । এটা কি বাস্তব না স্বপ্ন সে ঠিক বুঝতে পারছে না ।
“হুম ।তোমাকে যেভাবে পেয়েছি সেটাও তো মিরাকেল ছিল ।”
“শুনতে মিরাকেল মত সত্যি, আমার সাথে কারো কোন সম্পর্ক হয়নি । আমার যত খদ্দের ছিল সবাই ছিল যুবক, তাই তারা দ্বিধায় ছিল কাজটা করবে কি করবে না । তাঁদের বেশিভাগই কথাবার্তা বলে টাকা দিয়ে চলে যেত । বেশি হলে একটু গায়ে হাত দিত । কেউ কেউ বাড়াবাড়ি করার চেষ্টা করলে একটু ভয় দেখাতাম । তাতেই কাজ হত ।
হামিদের মনে একটা প্রশান্তির বাতাস বইতে লাগলো
“আর, এই যে মাথা মোটামাথার সাহেব আমার খদ্দের কখনো ত্রিশ জন ছিল না । আমি তোমাকে একটু পরীক্ষা করছিলাম । তুমি কি কর । তোমার ভাবান্তরটা কি হয় তাই দেখার চেষ্টা করছিলাম । আমার এই কথা শুনে তুমি কি পালিয়ে যাও, নাকি আবার ফিরে আসো । আমার বিশ্বাস ছিল তুমি ফিরে আসবে, এটা আমার বিশ্বাসেরও পরীক্ষা ছিল ।”
“ও আচ্ছা, তাই নাকি ! আমাকে পরীক্ষা করার প্রয়োজন হল কেন তোমার ? আমাকে তো তখন তুমি চিনতে না ?”
“তোমাকে প্রথম দেখার পর আমি বুঝতে পারলাম তুমি খুব ভালো একটা ছেলে । আর তুমি প্রায় আমার সাথে দেখা করতে আসতে তখন বুঝলাম আমাকে তোমার ভালো লাগে ।তাই আমিও চাইছিলাম তুমি আমার আর কাছে আসো ।”
হামিদ বিস্মিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে । এটা কি বাস্তব না স্বপ্ন সে ঠিক বুঝতে পারছে না ।
“তোমার কি মনে পড়ে প্রথম যেদিন তোমার সাথে দেখা হয়েছিল রিক্সায় একবার আমি বলেচিলাম
-আপনি মানুষটা কিন্তু ভালো ।”
“হুম,এবং উত্তর জানতে চাইলে তুমি বলেছিলে ,এর উত্তর পরে দিব ।”
“রিক্সায় উঠলে ছেলেরা কাঁধে আথবা শশীরে হাত রাখার চেষ্টা করে । তুমি সেটা করনি , সে জন্য বলেছিলাম আর এইজন্য তোমাকে আমার ভালো লেগেছিল ।”
হামিদ রামিসার কপালে একটা চুমু একে দিল ।
সাহিত্য সম্পাদক, বাংলাদেশ তরুণ লেখক পরিষদ, কবি নজরুল কলেজ, ঢাকা।



