-একি তুমি এখানে?
– হ্যা। ফ্রেন্ডের বিয়েতে এসেছি!
– তোমার সাথে অনেকদিন দেখা হয় না। তুমি ভালো আছো তো?
– ভালো আছি বললে মিথ্যা বলা হবে। আর ভালো নাই এ জবাবটা আমার পছন্দ না। তোমার কি খবর?
– আছি, ভালোই! অনেক রোগা হয়ে গেছো। তোমার সেই হাসিটাও মুখে নেই! একটু হাসবে, আগের মত?
– সেই হাসি খুঁজতে খুঁজতেই রোগা হয়েছি। কেন যেন তা আর খুজে পাচ্ছি না।
– আমাকে মাফ করে দিও!
– সেই সাধ্য আমার নেই। কেননা তোমাকে অপরাধী ভাবতে পারি না।
– একটা কথা জিজ্ঞেস করি?
-হ্যাঁ।
– তোমার স্ত্রী, মানে তুমি বিয়ে করেছো?
– না, করিনি।
– কি বলো! বিয়ে করো, তাহলে সব ঠিক হয়ে যাবে। দেখবে সুখী হতে পারবে।
– না! পৃথিবীর আকাশে চাঁদ ডুবে গেলেও আবার ওঠে। কিন্তু মনের আকাশটা ডুবে যাওয়া চাঁদ ওঠাতে অক্ষম।
– আমার ভুল হয়ে গেছে! মাফ করে দিও। আমি তোমাকে এখনো ভালোবাসি। আমার বাবা জোর করে তোমার কাছ থেকে আমাকে আলাদা করেছে।
শিলার মুখে ভালোবাসি কথাটা শুনেই একটা ধাক্কা খেল রমা। কতদিন পর সেই পরিচিত মুখের প্রিয় কথাটি শুনে চোখদুটো অশ্রুসিক্ত হয়ে যাচ্ছিলো রমার।
– আচ্ছা, তোমার স্বামী তোমাকে অনেক আদর করে তাই না?
– হুম, করে। কিন্তু বেদনার সমুদ্রে নাও ভাসিয়েছে। তাই সুখের খোঁজ মেলে না। আচ্ছা, এখনো কি কবিতা লেখো?
– হ্যাঁ। এখন ওটাই আমার একমাত্র সঙ্গী।
– প্লিজ, শোনাবে একটি কবিতা?
– হুম! তাহলে শোন।
আজো ভালোবাসি তোমায়,
বিশ্বাস করো একবিন্দুও ভুলিনি তোমায়।
এখনো তুমি আমার কাছে শুধুই তুমি
না কারো স্ত্রী, না আমি ছাড়া অন্য কারো সঙ্গী।
এখনো তুমি হাসো ঠিক আগের মতই,
যদিও তা কল্পনায়।
তবুও আমার কাছে যে তা-
বাস্তবের চেয়েও বাস্তব।
হয়েছে হয়েছে বলতে বলতে শিলার কয়েক ফোটা নোনা জল মাটির বুকে স্থান করে নিলো! হঠাৎ পেছন থেকে শিলা বলে ডাকলো এক ভদ্রলোক। শিলা কিছু না বলে চলে গেলো। আর তার পথের দিকে অনির্ণেয় ব্যাথা নিয়ে নির্বাক তাকিয়ে রইলো রমা!!!
আতিক হাসান, সভাপতি, বাংলাদেশ তরুণ লেখক পরিষদ, কবি নজরুল সরকারী কলেজ



